হার্টের রক্তনালিতে ব্লক হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে— ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে খারাপ কলেস্টেরলের মাত্রা (LDL. Triglyceride, Total Cholesterol) বেশি অথবা ভালো কলেস্টেরলের মাত্রা (HDL) কম, পরিবারে হার্ট অ্যাটাক রোগের ইতিহাস অন্যতম। কারণগুলোর কোনোটি না থাকলে শুধু বয়স বৃদ্ধির (পুরুষের ক্ষেত্রে ৪৫ ও নারীদের ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে) কারণেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

অন্যদিকে আমরা যদি হৃদরোগ নিয়ে সতর্ক হই তাহলে প্রাথমিক অবস্থা থেকেই আয়ত্তে আনা সম্ভব। এ জন্য বাড়াতে হবে সামাজিক সচেতনতা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন।

হৃদরোগ নিয়ে এসব কথা জানালেন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. রাকিবুল ইসলাম লিটু। তিনি বলেন, ECG, ECO, ETT নরমাল থাকা সত্ত্বেও হার্টের রক্তনালিতে ব্লক থাকতে পারে। অপরদিকে ECG, ECO, ETT অ্যাবনরমাল থাকা সত্ত্বেও হার্টের রক্তনালিতে ব্লক নাও থাকতে পারে। তাই হার্টের ব্লক আছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এনজিওগ্রাম করতে হবে। এ ছাড়া ধূমপান পরিহার করতে হবে। অন্যথায় হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়তেই থাকবে। আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির মতে, যাদের হৃদরোগ রয়েছে কোনো অবস্থাতেই তারা ধূমপান করতে পারবেন না (এমনকি এক পিস সিগারেটও না)। আর ডায়াবেটিস রোগীদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকের হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা নাও হতে পারে। এ রকম রোগী হঠাৎ করে ঘামতে শুরু করেন এবং রক্তচাপ কমে যায়। এ অবস্থা মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা নিরূপণ করতে হবে।

এদিকে, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হসপিটালের সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট ডা. মাহবুবর রহমান বলেন, হৃদরোগীদের জন্য সব খাবার তেল ভালো নয়। যে তেলগুলো স্বাস্থ্যকর সেগুলো হলো— সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, অলিভ অয়েল এবং যে তেলগুলো হৃদরোগীর জন্য ক্ষতিকর সেগুলো হলো— পামঅয়েল, নারিকেল তেল ও পাম কার্নেল। এ ছাড়া কলেস্টেরল দুই রকম হয়। একটি হলো খউখ বা খারাপ এবং অন্যটি ঐউখ বা ভালো কলেস্টেরল। রক্তে LDL কলেস্টেরলের মাত্রা ১০০ মিলি গ্রাম/DL’i নিচে রাখতে হবে। আর যাদের ধমনীতে রিং লাগানো বা বাইপাস করা আছে তাদের জন্য ধূমপান সর্বনাশা। ধূমপানে বাইপাস ও রিং হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার ৫-১০%। আর হঠাৎ রিং বন্ধ হয়ে মৃত্যুর হার ৪০-৪৫%।

অন্যদিকে  Angiogram বা Coronary Angiogram সম্পর্কে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডা. আমিরউজ্জামান খান বলেন, Angiogram বা Coronary Angiogram হৃৎপিণ্ডের Coronary Artery Disease বা Ischemic Heart Disease এক পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি অক্সিজেন ও নিউট্রিশন পায়, যার নাম Coronary Artery। সেই Coronary Artery এর মধ্যে কয়টি ব্লক আছে, ব্লকগুলোর অবস্থান কোথায় এবং ব্লকের Percentage কত সেটা নির্ণয় করা হয়। অহমরড়মত্ধস সাধারণত ডান পায়ের কুচকির কাছে একটা রক্তনালি আছে যার নাম Femoral Artery, এ Femoral Artery এর মাধ্যমে একটা ইনজেকশন নিডিলের যে ছিদ্র থাকে সেই ছিদ্রের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের Coronary Artery-এর কোথায় ব্লক আছে সেটা নির্ণয় করা যায়।