ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট) :
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ^ বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ আমদানি ও রপ্তানি নীতি গ্রহণ করে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিও-এর দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের জন্য পেপার লেস বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি চলছে। শ্রীলংকার সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষর করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিও-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ভলিউম বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম, মংলা বন্দরের পাশাপাশি পানগাঁও ও পায়রা সমুদ্র বন্দর চালু করেছে, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ, ভূটান, ইন্ডিয়া, নেপাল (বিবিআইএন) এবং বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার (বিসিআইএম) কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আজ ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ্ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ইন রিজিওনাল ট্রেড এন্ড কানেকটিভিটি : এ পলিটিকো-ইকোনমিক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মোট বিশ^ বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশের কম বাণিজ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশের সাথে ভারত ও চীনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। আমাদের প্রয়োজনেই মেশিনারিজ ও পণ্যের কাঁচামাল সেখান থেকে বেশি আমদানি করা হচ্ছে। আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চিলি, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত বিশে^র অনেক দেশে বাংলাদেশ বেশি পণ্য রপ্তানি করে থাকে। যে সকল দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বেশি তাও বলা উচিত। বাংলাদেশ সার্ভিস সেক্টর বাদে গত বছর প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করেছে। এ বছর ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্ভিস সেক্টর মিলে মোট রপ্তানি ধরা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশকে কোন ধরনের বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে না। দেশের শিল্প সুরক্ষা দিয়ে বাণিজ্য করছে, এ নীতির ফলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিমেন্ট, রড, পেপার, টিনসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর কাউন্টার ভেলিং ডিউটি আরোপ করেছে, কিন্তু কাঁচাপাট আমদানির ওপর কোন ডিউটি আরোপ করেনি। বাংলাদেশ সবসময় নিজেদের শিল্পের সুরক্ষা দিচ্ছে। আগামী ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবীদ এম শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গেস্ট অভ্ অনার সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রেসিডেন্ট আ স ম আব্দুর রব, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন, এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ঢাকা চেম্বার অভ্ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম, অ্যাম্বাসেডর আশফাকুর রহমান, বিআইআইএসএস-এর প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।