নতুনের আহ্বানেশনিবার বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্বের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হচ্ছে । প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত সেরা তরুন ক্রীড়াবিদদের এই আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে উদ্বোধন হলেও অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হবে বিকেলে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও মাছরাঙা টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি।
বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশের সবগুলো গেট খোলা হবে। সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দর্শকরা প্রবেশ করতে পারবেন স্টেডিয়ামে। এরপরেই শুরু হবে ডিজে শো এবং বিভিন্ন সময়ে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের খেলাধূলার সচিত্র এভি। ৩০ মিনিটের এই অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৪৫ মিনিট থাকবে নামাযের বিরতি। ৬টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন মাননীয় প্রধানন্ত্রী। এরপরেই সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে বেজে উঠবে জাতীয় সঙ্গীত। ৬টা ৫৩ মিনিটে প্রদর্শণ করা হবে ‘এক ঝলকে বাংলাদেশ যুব গেমস’এর এভি প্রদর্শনী। এই এভি প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করবেন আট বিভাগের সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদরা। ৭টা ১১ মিনিটে আগত অতিথিদের বক্তব্য শেষে ৭টা ২১ মিনিটে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ৫ মিনিট স্থায়ীত্বকালের এই উদ্বোধনের পরপরই মশাল প্রজ্বলন করা হবে। যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্বের মশাল প্রজ্বলন করবেন ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী ও দেশসেরা শুটার আসিফ হোসেন খান। ৭টা ৩০ মিনিটে গেমসের থিম সংয়ের এভি প্রদর্শনীর ধীরে ধীরে মাঠ ত্যাগ করবেন ক্রীড়াবিদরা। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে আট মিনিটের মাসকট প্যারেড। ৭টা ৫৩ মিনিটে স্টেজ পারফরমারদের নাচ ও গান পরিবেশন হবে। ১৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠানে দেশসেরা কণ্ঠ ও নৃত্য শিল্পীরা অংশ নেবেন। ৮টা ৮ মিনিটে বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে প্রদর্শিত হবে ডিসপ্লে। ২৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠান শেষে প্রদর্শিত হবে আকর্ষনীয় লেজার শো। ৮টা ৩৩ মিনিটে লেজার শো, পাইরো এবং ফায়ার ওয়ার্কস প্রদর্শনী শেষে ৮টা ৪০ মিনিটে সমাপ্তি ঘটবে বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্বের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের।
জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্ব এখন দোরগোড়ায়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ভবিষ্যতের ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, চূড়ান্ত পর্বের মধ্য দিয়েই তা শেষ হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত পর্বে ২১টি ডিসিপ্লিনে ২,৬৬০ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। এই পর্বে ১৫৯টি ইভেন্টে ১,১১৪টি পদকের জন্য লড়বেন করবেন তরুন ক্রীড়াবিদরা। ৩৪২টি স্বর্ণ,৩৪২টি রৌপ্য এবং ৪৩২টি ব্রোঞ্জপদক থাকছে ২১টি ডিসিপ্লিনে।চূড়ান্ত পর্বের ডিসিপ্লিনগুলো হল- অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ফুটবল, কাবাডি, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, হকি, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, শুটিং, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, দাবা, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্ডো ও স্কোয়াশ।

শ্যুটিংয়ের বিভাগীয় পর্বের বাছাই সম্পন্ন
বাংলাদেশ যুব গেমসে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ছিল না শ্যুটিং। সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে শ্যুুটিং। তবে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহনের যোগ্যতা নির্ধারনে শুক্রবার বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে শ্যুটিং। শুক্রবার (৯মার্চ) গুলশানে অবস্থিত বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের রেঞ্জে বিভাগীয় তরুন ও তরুনীদের পয়েন্ট ১৭৭ ওপেন সাইট এয়ার রাইফেল এর চূড়ান্ত বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় এ বাছাই কার্যক্রমে মোট ১৫২জন তরুন-তরুনী অংশ গ্রহন করে। প্রতিটি বিভাগ হতে মোট ৪জন সর্বোচ্চ স্কোর করা (দুজন তরুন ও দুজন তরুনী) শ্যুটার গেমসের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। উল্লেখ্য চট্টগ্রাম বিভাগের বাছাই কার্যক্রম আগেই সম্পন্ন করেছে ফেডারেশন।
তরুনদের গ্রুপে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা রাইফেল ক্লাবের এসএম ফয়েজ হোসেন (২৩১ স্কোর) ও ঝিনাইদহ রাইফেল ক্লাবের অন্তর সরকার (২১১ স্কোর), স্বাগতিক ঢাকা বিভাগ হতে গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের ফজলে রাব্বী (২৩৮ স্কোর) ও নারায়গঞ্জ রাইফেল ক্লাবের এসএম সাজ্জাদ হায়দার (২১২ স্কোর), রাজশাহী বিভাগ হতে পাবনা রাইফেল ক্লাবের মো: মেহেদী হাসান লিমন (২৩৫ স্কোর) ও একই ক্লাবের আলী হাসান (২২৯ স্কোর), বরিশাল বিভাগে পিরোজপুর রাইফেল ক্লাবের মো: এমরান খান শান্ত (২৪০ স্কোর) ও একই ক্লাবের এমরান হোসেন (২১৭ স্কোর), ময়মনসিংহ বিভাগ হতে নেত্রকোনা রাইফেল ক্লাবের ফারদিন মো: অর্নব (২২৪ স্কোর) ও ময়মনসিংহ রাইফেল ক্লাবের সাদমান আহমেদ তাসিন (৬০ স্কোর), রংপুর বিভাগে পঞ্চগড় রাইফেল ক্লাবের ফারহান ইসতিয়াক শাফিন (১৩৪ স্কোর) ও একই ক্লাবের মাহামুদুল হাসান (৬৬ স্কোর) চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
এদিকে তরুনীদের গ্রুপে খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের ছামান্তা রহমান ঐশি (২০৮ স্কোর) ও যশোর রাইফেল ক্লাবের জুলেখা আক্তার (১৮৭ স্কোর), ময়মনসিংহ বিভাগ হতে ময়মনসিংহ রাইফেল ক্লাবের তানজিলা রেজা (১৬ স্কোর), রাজশাহী বিভাগ হতে পাবনা রাইফেল ক্লাবের সুমাইয়া তাসনিম রিফা (২০৪ স্কোর) ও বগুড়া রাইফেল ক্লাবের শিল্পা রায় (১৮৬ স্কোর), ঢাকা বিভাগ হতে গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের লুবাবা সাফি (২২০ স্কোর) ও নারায়নগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের মাহমুদা খানম সৃষ্টি (১৯৬ স্কোর), এবং বরিশাল বিভাগ হতে পিরোজপুর রাইফেল ক্লাবের জিন্নাত কবির সুচনা (২৩৬ স্কোর) ও পটুয়াখালী রাইফেল ক্লাবের মাইসা রহমান (২৩১ স্কোর) গেমসের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখায়।

ফুটবলের সেমিফাইনালে সিলেট ও রাজশাহী

শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম দুটি কোয়ারর্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যকার ম্যাচটিতে ৩-২ গোলে নিষ্পত্তি হয়। পিছিয়ে থেকেও অসাধারণ এক জয় তুলে নেয় রাজশাহী। এছাড়া দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা বিভাগকে উড়িয়ে দিয়ে ৩-১ ব্যবধানে দারুন এক জয় তুলে নেয় সিলেট বিভাগ।

ম্যাচের শুরুতেই মাঝমাফ থেকে বল পেয়ে একাই রাজশাহীর রক্ষণভাগ গুড়িয়ে দিয়ে বল জালে জড়ান চট্টগ্রামের ফারুকুল ইসলাম। চট্টগ্রামের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন জমির উদ্দিন ৩১ মিনিটি। বাম প্রান্তের ক্রসে তিনি গোলটি করেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠে রাজশাহী শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের শেষ মুহুর্তে সজিবের কল্যানে স্কোর লাইন ব্যবধান কমায় (২-১)।

বিরতি থেকে ফিরে ছন্দপতন ঘটে চট্টগ্রামের। প্রথমার্ধে প্রভাব বিস্তার করা সেই চট্টগ্রামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি দ্বিতীয়ার্ধে। রাজশাহীর একের পর এক আক্রমন প্রতিহত করতে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় চট্টগ্রামের রক্ষণভাগকে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি ৬৬ মিনিটি ঈমন এবং ৭০ মিনিটে মেহেদীর গোলে (২-৩) ব্যবধান বাঁড়ায় রাজশাহী।

এদিকে সিলেট শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না। উল্টো ২২ মিনিয়ে খুলনার রনির গোলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সিলেট। গোল খেলে আরও কয়েকবার আক্রমণে গিয়েও খুলনার রক্ষণভাগ গুড়িয়ে দিতে পারেনি সিলেট। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে সিলেট।

বিরতি থেকে ফিরে একের পর এক আক্রমণে খুলনার রক্ষণদূর্গ ভেঙ্গে তিনটি গোল আদায় করে নেয় সিলেট। রাসেল আহমেদ ৫০ মিনিটে গোল করলে সমতায় ফেরে সিলেট। এর কিছুক্ষন ৬৫ মিনিটে হেলাল আহমেদ গোল করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিলেট। হেলালের গোলের কিছুক্ষণ পর আবারো আক্রমণে যান রাসেল আহমেদ। আজিজের পাসে প্লেসিং শটে দারুন এক গোল করেন রাসেল আহমেদ।

আগামী রবিবার প্রথম সেমিফাইনালে ঢাকা ও সিলেট মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে রংপুর বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগ।