নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের (এটিসি) সঙ্গে বাংলাদেশি উড়োজাহাজের পাইলটের যে রেডিও কথোপকথন ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছে, তা তদন্ত করা হবে। নেপালের একাধিক সংবাদমাধ্যম এ খবর নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার দিন বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালন করা ৬ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা’তে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএন) ও তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) যৌথভাবে রেডিও কথোপকথনের বিষয়টি তদন্ত করবে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিএএএন-এর মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম জানান, এটিসি ও পাইলটের মধ্যকার রেডিও কথোপকথন প্রকাশ করা আইনত নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ফাঁস হওয়া কথোপকথন নিয়ে তদন্ত করব।’

সঞ্জীব গৌতম আরও বলেন, সোমবার ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কর্মরত ৬ কর্মকর্তাকে দুর্ঘটনার পর থেকেই দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর সঠিক সময়ই পৌঁছেছিল উদ্ধারকারী দল।

এদিকে কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, নেপালের সরকার এ ঘটনায় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ দেবকোটা বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার কারণ জানা সম্ভব হবে।

নেপালের কাঠমান্ডুতে গতকাল দুপুরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু ছিলেন। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানসহ ৫১ জন নিহত হয়েছেন।

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ৩৪ বছর আগে ঢাকায় এমন একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেটা ছিল বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। তাতে নিহত হন ৪৫ জন যাত্রী ও ক্রু। তবে গতকালের ঘটনা আগের দুর্ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে।