ঢাকা, ২৮ মাঘ (১০ ফেব্রুয়ারি) :

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার কৃষকবান্ধব হওয়ায় বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্ত্রী আজ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত “জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা ২০১৮”-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা এ সফলতা অর্জন করেছি। আমরা আজ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানির জন্য বহির্বিশ্বে বাজার খুঁজছি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক, মজুর ও মেহনতি মানুষের দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য, তাদের ঘামের বিনিময়ে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। দেশের সংকটকালীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি উন্নয়নে যে রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন তাঁর সেই পথ ধরে বর্তমানে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।
কৃষিজীবীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যাতে উৎপাদিত ফসল সহজেই বাজারে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য সরকার ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। গ্রামীণ হাট-বাজারকে উন্নত করার জন্য অবকাঠামোগত পরিবর্তন করছি। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল বাজার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সকল সুবিধা এখন আপনাদের হাতের নাগালে রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কৃষি, সেচ, মৎস্য চাষ ও জলাশয় ব্যবস্থাপনার জন্য পুকুর ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আপনাদের আর বিলে জলাবদ্ধতা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না, সেচের পানির জন্য চিন্তা করতে হবে না। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী খনন প্রকল্পও হাতে নিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির জন্য কৃষক ভাইদের আর এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, আমরা নি¤œআয়ের দেশ থেকে মধ্যমআয়ের দেশে পরিণত হচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, এখন কোন মানুষকে বাধ্য হয়ে কৃষি কাজ করতে হয় না। মানুষ এখন নানা পেশায় নিয়োজিত আছে। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে এ খাতকে আধুনিক করতে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এর আগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে কৃষিবিদ মিলনায়তন চত্বরে এসে শেষ হয়। তিন দিনব্যাপী এ মেলা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
পরে মন্ত্রী ‘জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা ২০১৮’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।