বন্যাপ্রবণ জেলাসমূহে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম বলেছেন, চলতি অর্থবছরে বন্যাপ্রবণ জেলাসমূহে ১০৬৩০ মেট্রিক টন চাল, ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ও ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্যাপ্লাবিত জেলাসমূহে গত কয়েকদিনে ১২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।
তিনি আজ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনকালে এ তথ্য জানান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব গোলাম মোস্তফা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব রিয়াজ আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে, প্রতি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমন্বয় ও ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করতে মন্ত্রণালয় থেকে কর্মকর্তা সংযুক্ত করা হয়েছে। উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবছর স্মরণকালের মারাত্মক বন্যা হয়েছে। মন্ত্রণালয় উজানের দেশের বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখছে। আর উজানের দেশসমূহে বন্যা হলে ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের উপর পড়বে-এটাই স্বাভাবিক। তার আলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি ও মানুষের জন্য সহনশীল অবস্থায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সরকার ঘরে বসে নেই। জেলা প্রশাসকদের চাহিদা মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। একটি লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায় তার জন্য জেলা প্রশাসনকে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালাতে বলা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করে মন্ত্রী বলেন এ পর্যন্ত ২০টি জেলার ৫৬টি উপজেলা বন্যাপ্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলায় ইতোমধ্যে ৫৬২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৯৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৯টি। এ সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে। এখন পর্যন্ত ২৭টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে রয়েছে।
বন্যা মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সিপিপি ও মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যাপ্লাবিত জেলাসমূহের প্রত্যেকটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি মেডিক্যাল টিমদের অনুরোধ করেন তারা যেন প্রতিদিন বন্যা কবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করে সেবাকার্য চালিয়ে যান। তিনি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তারা যেন বন্যা প্লাবিত এলাকার টিউবওয়েলগুলো উঁচু করে দিয়ে, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং পানি বাহিত রোগ থেকে দুর্গত মানুষদের রক্ষা করেন। যেসব বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে সেগুলো দ্রুত মেরামত করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন মন্ত্রী। আর কোন বেড়িবাঁধ যাতে নতুন করে ভেঙে না যায় তার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করতে ও পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন তিনি।