নড়িয়া (শরীয়তপুর), ১৩ ভাদ্র (২৮ আগস্ট):

বন্যাকবলিত এলাকায় কর্মরত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বন্যায় ত্রাণসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে বিতরণের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, আজ শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনে ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক দুটি সমাবেশে এ ঘোষণা দেন।
লে. কর্নেল (অব.) শওকত আলী এমপি, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, এডভোকেট নাভানা আক্তার এমপি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শাহ্ কামাল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরে চলমান বন্যায় এর আগে ৪২৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা, ৮০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ঘর নির্মাণের জন্য ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আজকের সমাবেশে আরও ৩০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২১ লাখ টাকা, ১০০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ঘর নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গরিব মানুষের ঈদকে স¦স্তিদায়ক করতে ঈদের পূর্বেই বরাদ্দকৃত সকল ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বন্যাপ্লাবিত মানুষের কষ্ট লাঘবে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। চাহিদা থাকলে আরো পাঠানো হবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকদের বিনামূল্যে সার, কীটনাশক ও বীজ দেয়া হবে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সকল স্থাপনা বন্যার পর পুনঃনির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি এনজিওদের সুদের কিস্তি স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণে স্বজনপ্রীতিসহ যে কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মন্ত্রী এরপর শরীয়তপুর জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দেন। ত্রাণসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে বিতরণে কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।