মেহেদী হাসান উজ্জল,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
“মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে যাক জরা,অগ্নি স্নানে সুচি হোক ধরা”। বাঙালি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় বৈশাখকে এভাবেই ধরাতলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবির কিরণে হাসি ছড়িয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি, অপ্রাপ্তি, বেদনা ভুলে নব আনন্দে জেগেছে গোটা জাতি পহেলা বৈশাখে। শুরু হলো নতুন বছরের শুভ সূচনা স্বাগত ১৪২৫।
১৪২৪ বাংলা খৃষ্ঠাব্দ বছরের শেষ দিনে চৈত্র সংক্রান্তির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতি বিদায় জানিয়ে, ১৪২৫ বাংলা নতুন বছর কে স্বাগত জানিয়েছে। চৈত্রের দিন শেষে বাংলার ঘরে ঘরে নতুন বছরকে আহব্বান জানাচ্ছে সব বয়সের মানুষ। বাঙালির জীবনের আনন্দের ও মহিমান্বিত এই দিন পহেলা বৈশাখ।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শনিবার সকালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরীর নেতৃতে এক মঙ্গল শোভা যাত্রা বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রদান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে দিন ব্যাপী বাংলা গানের অসর চলে। উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই কর্মসুচিতে অংশ গ্রহন করেন।

অপরদিকে ফুলবাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে সকাল ৭টায় এক পান্তা উৎসবের আয়োজন করা হয়।এতে পৌর এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পান্তা ইলিশ খেতে পান্তা উৎসবে অংশগ্রহন করতে দেখা গেছে। সেই সাথে বাঙ্গালীর হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ফুলবাড়ী পৌর সভার উদ্যোগে ফুলবাড়ী উপশহর মাঠে ২দিন ব্যাপী এক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাঙালি হারিয়ে গেছে আজ বাঁধ ভাঙা উল্লাসে। উৎসব, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সব জরা গ্লানিকে মুছে ফেলে সকলে গেয়ে উঠছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। বৈশাখী উৎসবের মধ্য দিয়ে যেন বাঙালি তার শিকড় খুঁজে পেয়েছে।