মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

প্রেমিকার বিয়ে ঠেকাতে না পেরে প্রেমিক তার ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় বোনকে গালমন্দ করেন ভাই। তাতে মনের ক্ষোভে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন জেমি খাতুন নামের ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রী। সে ঘটনায় প্রেমিক আরাফাত হোসেন আরিফ নামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সদরে এ ঘটনাটি ঘটে। আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

জেমি উপজেলার দঃ গড্ডিমারী গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে। সে হাতীবান্ধা শাহ্ গরীবুল্যাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো।

অপর দিকে আটক আরাফাত হোসেন আরিফ পার্শ্ববর্তী এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী এলাকার আরিফ নামের এক কিশোরের সাথে জেমির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি ‍বুঝতে পেরে জেমির বিয়ে ঠিক করে তার পরিবার। বর পক্ষকেও জেমির সাথে প্রেমের সমপর্কের কথা বিভিন্নভাবে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে আরিফ তার ফেসবুকে জেমির ছবি পোস্ট করেন।

আরিফের ফেসবুকে ছবি দেখে জেমির বড় ভাই তাকে গালমন্দ করেন। সেই ক্ষোভে জেমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাড়ির সকলের অগোচরে জেমি তার দাদীর ঘরে ফ্যানে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে ঘটনাটি জেমির দাদীর দৃষ্টিতে পড়লে তিনি চিৎকার করেন। এলাকাবাসী জেমিকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ জেমির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়।

আত্মহত্যার সহায়তাকারী হিসাবে আরাফাত হোসেন আরিফসহ দুজনকে আসামী করে জেমির বাবা জহুরুল ইসলাম হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ আরিফকে গ্রেফতার করে আজ সকালে লালমনিরহাট কোর্টে প্রেরণ করেন।

জেমির বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, এর আগে আমার মেয়ে ইংলিশ প্রাইভেট পড়ার সময় রাস্তায় আরাফাত হোসেন আরিফ তার বন্ধুরাসহ প্রায় সময় পথ রোধ করে জেমিকে ডিস্টার্ব করতো। ফলে ঐ প্রাইভেট বন্ধ করে দেই। এরপরেও আরিফ আমার মেয়ের পিছু নেওয়া ছাড়েনি। আমি এ ঘটনার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাসান সরদার জানান, এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে জেমির বাবা একটি মামলা করেছেন। এতে আরাফাত হোসেন আরিফসহ দুইজনকে আসামী করা হয়েছে। যাহা মামলা নং- ৩২। তাং- ২২/১১/২০১৭। তারিই প্রেক্ষিতে আরিফকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।