বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, গুমকে স্বীকৃতি দিয়ে তার দায় সরকার নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক কর্মচারি ঐক্যজোট আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির দাবি’ উপলক্ষে এ কর্মসূচি পালিত হয়।পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও তো গুম হয়- জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এর মানে তিনি স্বীকার করছেন, অন্য দেশে গুম হয়, আমার দেশেও হয়। অন্য দেশে গুম হয় বলে আমি গুম করি। সুতরাং গুমের দায় প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বীকার করে নিলেন এবং গুমকে স্বীকৃতি দিলেন। তিনি স্বীকারোক্তি দিলেন গুম করেন। এটা অন্যায় কিছু নয়, অন্য দেশেও হয় আমার দেশেও হয়।

রিজভী বলেন, গুম রাষ্ট্রের পক্ষে থেকে করা হয়। যাদের গুম করা হয়, তারা অধিকাংশ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও সাংবাদিক। কেউ বাদ নেই গুম থেকে। যদি কেউ কোনো কারণে সরকারের স্বার্থের বাইরে কাজ করেন তাহলে তিনি গুম হন।

গুম হয় আবার তো ছাড়াও পেয়ে যায়- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এর মানে উনি স্বীকার করে নিচ্ছেন, গুম করে রাখা হয়। স্বার্থের বিষয়টা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় আসলে তখন ছেড়ে দেওয়া হয়। আর যখন স্বার্থের বিষয় মিলবে না তখন তিনি চির দিনের জন্য গুম হয়ে যাবে। যেমন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম ও সুমন চির দিনের জন্য গুম হয়েছে।

সরকারের নির্দেশে গুম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ইচ্ছায় অনেক দিন পর কেউ কেউ বের হয়ে আসে আবার চিরস্থায়ীভাবে কেউ কেউ গুম হয়। গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নিজের এটা স্বীকার করেছেন। এই দু:শাসন এদেশের আর চলবে না – বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রিজভী

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফরহাদ হালিম ডোনার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।