ঢাকা, ১৫ এপ্রিল;
আদর্শহীন মেধা, আদর্শহীন রাজনীতি সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় দক্ষ। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আজ জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, শ্রমিক, কর্মচারী পেশাজীবীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন।

শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ ছাত্র আন্দোলনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের বাসভবনে হামলা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক আশিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কলামিস্ট আবেদ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, নাট্য ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, শ্রমিক নেতা মোখলেসুর রহমান, প্রজন্ম লীগের নেতা এডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয়, সিবিএ নেতা আবুল হোসেন, মহসিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছিল। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় পদক্ষেপের ফলে তাদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে।

শাজাহান খান বলেন, আমরা কোটা বা ভাতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশের উন্নয়নে ও জনগনের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী সমাবেশ থেকে সমন্বয় পরিষদের ৬-দফা দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবি ও ঘোষণাসমূহ নি¤œরূপ:

৬ দফা দাবিঃ

১। কোটা সংস্কারের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, নাশকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

২। জামাত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তি ও তাদের দলের সন্তানদের সরকারী চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

৩। জামাত-শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধী যারা সরকারী চাকুরীতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যহত করছে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার বিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

৪। যুদ্ধাপরাধীদের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৫। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যারা পুড়িয়ে, পিটিয়ে কুপিয়ে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা,পুলিশ, বিজিবি, ছাত্র, যুবক, শিশু, নারীসহ, অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেসরকারী ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুন্নকারি এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের ‘হলোকাষ্ট বা জেনোসাইড ডিনায়েল ল’ এর আদলে আইন প্রনয়ন করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্মসূচী
১৮ এপ্রিল, বুধবার ২০১৮ বাংলাদেশের সকল জেলা উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় পরিষদের ৬ দফা দাবীর ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পেশ করা হবে;

২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে, ২০১৮ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় গণসংযোগ করা হবে;

২২ এপ্রিল, রবিবার ২০১৮ সকাল ১০ টায়, বাংলাদেশের সকল মহানগর, জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, সহকারী কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডারবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রতিনিধি সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে;

৩০ এপ্রিল, সোমবার ২০১৮ বিকাল ৩ টায়, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকারী, আধা সরকারী, বেসরকারী, সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সকল সংগঠনসহ সকল স্তরের জনতার এক মহাসমাবেশ ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে এবং

৫ মে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম, শ্রমিক কর্মচারী বিভিন্ন পেশার সংগঠন, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকারী, আধা সরকারী, বেসরকারী, সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।