৬ই অক্টেবার ২০১৭, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা। কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ, ঢাকার শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে কণ্ঠশীলন প্রযোজিত নতুন আবৃত্তি প্রযোজনা ‘কঙ্ক ও লীলা’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। ঐতিহ্যবাহী মৈমনসিংহ গীতিকা থেকে নেয়া রূপক ও প্রণয়মূলক আখ্যান ‘কঙ্ক ও লীলা’ আবৃত্তি প্রযোজনাটির নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন কণ্ঠশীলন প্রতিষ্ঠানের তরুণ নির্দেশক লিটন বারুরী। অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিলো ম্যাক্স গ্রুপ।
মৈমনসিংহ গীতিকা আখ্যানের অধিকাংশ গাথাই মানুষের মনের সাথে গেঁথে আছে। সুপরিচিত ঐতিহাসিক ঘটনা নির্ভর কাহিনি, কঙ্ক ও লীলার জীবন থেকে নেওয়া। কঙ্ক গুরুর আশ্রমে থাকতেন। আশ্রমে থাকা অবস্থায় গুরুর মেয়ে লীলার প্রেমে পড়েন কঙ্ক। কিন্তু সেই প্রেমের বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেই সময়ের সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কার। আশ্রম ত্যাগ করতে হয় কঙ্ককে। এদিকে লীলা কঙ্কের বিরহে আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে। তাঁর পথ চেয়ে থাকতে থাকতে একদিন মৃত্যুকে বরণ করতে হয় লীলার। তাঁর মৃত্যুর পর কঙ্ক আসেন আশ্রমে। দেখা মেলে না আর। এরপর শেষবারের মতো আশ্রম ত্যাগ করেন কঙ্ক। চারজন গীতিকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিখলেন কঙ্ক ও লীলা নামক গাথাটি। তাঁরা হলেন- দামোদর দাস, রঘুসুত, শ্রীনাথ বেনিয়া এবং নয়ানচাঁদ ঘোষ। এই পৃথিবীর অধিকাংশ প্রেম কিংবা প্রণয় আখ্যান যেন বিরহের সমষ্টি, শৃঙ্গার ও করুণ রসের যোগফল। সেখানে বিপরীত গোষ্টি কিংবা ধর্মের হলে যোগাঙ্ক অনেকদূর গড়িয়ে চলে, পরিধি বিস্তৃত হয়। পরিবারের সাথে সাথে সমাজ, রাষ্ট্র তাদের দায়িত্ববোধের তূর্যে হুঙ্কার তোলে। ‘কঙ্ক ও লীলা’ও বোধ করি এর বাইরে নয়।
প্রায় এক ঘণ্টার প্রযোজনাটির সঙ্গীত নির্দেশনা দিয়েছেন অনামী ইসলাম কণক। কোরিওগ্রাফী করেছেন এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম রনি, আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন অম্লান বিশ্বাস, ঢোল বাজিয়েছেন রামকৃষ্ণ মিত্র হিমেল ও বাঁশিতে ছিলেন ফাইজুর রহমান। এছাড়াও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মোস্তফা কামাল ও পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন ইলা রহমান।
‘কঙ্ক ও লীলা’ আবৃত্তি প্রযোজনাটিতে অংশগ্রহণ করেছেন রাজিয়া সুলতানা মুক্তা, খায়রুন নাহার ¯িœগ্ধ, মিফতাহুল জান্নাত নিপুণ, মিনহাজুল বশির শোভন, হালিমা নীলা, সায়েম খন্দকার, শারমিন ইসলাম, তাসনীম ইসলাম দ্যুতি, মাহবুবা নাজনীন খুশি, সঞ্চারী হালদার, মুহাম্মাদ নাঈম, বিনীতা দাস, মাসফিকা রহমান স্মরণী, বিধান বাঁধন রায় ও হাফিজা খাতুন ।