পাবনা শহরের ড্রীম প্যালেস হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সময় হাতে নাতে ৫ জুটি ও হোটেল ম্যানেজারকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে শহরের মাসুম বাজার এলাকার ওই হোটেলে পুলিশ অভিযান চালায়।

 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই হোটেলে অভিযান চালায়। অভিযানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সময় ৫টি কক্ষ থেকে ৫ জুটিকে আটক করে।

পরে অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধে হোটেল ম্যানেজার আতিয়ার রহমানকে আটক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাসুম বাজারের হোটেল ড্রীম প্যালেসে অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এলাকাবাসী বার বার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি। অনেক সময় পরিবার পরিজন নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। আমরা এলাকাবাসী এই অভিযানকে সাধুবাদ জানাই। এই কার্যকলাপ স্থায়ী ভাবে বন্ধ হোক এমন প্রত্যাশা তাদের।

তারা আরো বলেন, পাবনা বর্তমানে একটি শিক্ষানগরী হওয়ায় বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে শহরের প্রভাবশালী মাহফুজ আলী কাদেরীর হোটেল ড্রীম প্যালেস হোটেলে এই ধরনের কার্যকলাপ চললেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পায়না।

 

এ সময় হোটেলের রুম তত্মাবধায়ক কামাল আহমেদ বলেন, এই হোটেলে প্রতিদিনের ন্যায় সকালে ৮/৯ টি জুটি আসে হোটেলে। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করলে প্রতিটি রুমের জন্যে ২৫ শত টাকা প্রদান করেন। আমাদের মালিক যে ভাবে কাজ করতে বলে সে ভাবেই আমরা কাজ করি।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাবনা শহরের কয়েকটি হোটেলে এসব কর্মকান্ড হচ্ছে, এমন খবর পেয়েই আমাদের এই অভিযান।

সম্প্রতি ঢাকাসহ সারা দেশে হোটেল কেন্দ্রিক পরকীয়া হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড হওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেই। তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৫ জুটিকে হাতে নাতে ধরে ফেলি। এ ধরনের অভিযান পাবনায় অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। আটককৃতদের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদের মধ্যে শহরের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গৃহবধূ রয়েছে।