মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

চলতি গরু-ছাগলের হাটে চলছে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। নেই কোন ভোক্তা অধিকার আইনের প্রয়োগ আর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারী। ফলে প্রতিটি পণ্য ক্রয়বিক্রয়ে আদায় করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত খাজনা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষক ও জনগণ আর আঙ্গুলফুলে কলা হচ্ছে ইজারাদার নামের একশ্রেণীর মহাজন। পবিত্র কোরবানির ঈদ উপলক্ষে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার অর্ধশতাধিক গরুছাগলের হাটে ক্রয়বিক্রয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এযেন দেখেও দেখার কেউ নেই। তবে সাধারণ ভুক্তভোগী জনগণেরা এবিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে।

গবাদি পশুর ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ক্রেতার কাছ থেকে খাজনা আদায়ের নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না হাট ইজারাদাররা। তারা জোর পূর্বক ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকেই খাজনা আদায় করছেন। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত ইজারাদারদের সাথে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি হাট-বাজার ইজারা নীতিমালা ২০১১ এর ৫ অনুচ্ছেদে ১৪২৪ বঙ্গাব্দের জন্য যে খাজনা অনুমোদন করা হয়েছে তাতে উল্লেখ আছে, গরু, মহিষ ও ঘোড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ক্রেতার কাছ থেকে ৩০০ টাকা খাজনা আদায় করা যাবে।
নীতিমালার ১নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, কোনো ভাবেই দ্বিতীয় পক্ষের নিকট খাজনা আদায় করা যাবে না। যদি কোনো ইজারাদার করে থাকেন তা সরকারী দণ্ডবিধি মোতাবেক অপরাধ। কিন্তু জেলার অর্ধশতাধিক হাট বাজারের ইজারাদার তা মানছেন না।

জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, আদিতমারী মহিষখোচা হাটে গরু প্রতি ক্রেতা ও বিক্রেতা মিলে ৫০০ টাকা, কালীগঞ্জের চাপারহাট হাটে ৫০০ টাকা, হাতীবান্ধা হাটে ৪০০ টাকা, হাতীবান্ধার বড়খাতা হাটে ৪০০ টাকা, হাতীবান্ধা দইখাওয়া হাটে ৩৫০ টাকা, পাটগ্রাম হাটে ৫০০ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
নীতিমালার ২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, খাজনা আদায়ের আগে হাটবাজারের প্রকাশ্য জায়গায় খাজনার পরিমাণের তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। যদি কোনো ইজারাদার তা না করে তাহলে ওই ইজারাদারের উপর ফৌজদারী দণ্ড বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো ক্রমেই খাজনার তালিকা প্রদর্শন ছাড়া আদায় করা যাবে না। কিন্তু অধিকাংশ হাট ইজারাদার তা মানছেন না।

গত শনিবার জেলার হাতীবান্ধা হাট ঘুরে কোথাও কোনো খাজনার তালিকা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সে সময় খাজনা আদায় নিয়ে ইজারাদারের এক সদস্যের সাথে ছোবাহান নামে এক গরু বিক্রেতার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
হাতীবান্ধা হাটের গরু ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল বলেন, হাতীবান্ধা হাটে ক্রেতার কাছে ৩০০ ও বিক্রেতার কাছে ১০০ টাকা খাজনা আদায় করা হয়। একই নিয়মে দইখাওয়া হাটে ৩৫০ টাকা ও বড়খাতা হাটে ৪০০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হয়।

এ প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা হাটের ইজারাদার কমিটির সদস্য আব্দুল হক বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক খাজনা কত তা আমি জানি না আর জানতেও চাইও না। আমি খাজনা আদায় করি রশিদ দেই। কোথাও খাজনার পরিমাণের তালিকা প্রদর্শন করা নেই, তবে কেউ দেখতে চাইলে দেখানো হবে। উভয় পক্ষের নিকট খাজনা আদায় করা যাবে কিনা তা আমি জানতে চাই না। এর বাইরে কোনো কথা বলতে পারবো না।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, হাতীবান্ধা হাটে যদি ইজারাদার উভয় পক্ষের নিকট খাজনা আদায় করে থাকে তাহলে ওই ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাফিউল আরিফ এবিষয়ে সাংবাদিককে জানান, গরুর হাট-বাজার গুলোতে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে।