আজ ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, শনিবার, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর উদ্যোগে এবং দেশের প্রথিতযশা সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষনা ও জাতীয় পেশাজীবি, সামাজিক সংগঠন এবং ৩৮টি বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রখ্যাত বেসরকারী সামাজিক আন্দোলনের সহযোগে দুদিনব্যাপী ‘‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস বিষয়ক বিশেষ সম্মেলন’’ সমাপ্ত হয়।

বিকাল ৫ টায় সমাপনী অধিবেশনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.এম ফিরোজ আহ্মেদ সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাপার সহ-সভাপতি ও বেন এর বৈশি^ক সমন্বয়ক ড. নজরুল ইসলাম। দিনের বিভিন্ন অধিবেশনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নগর গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্রকৌশলী আলী আহমেদ খান, অতিরিক্ত সচিব, ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্খাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, সমাপনী অধিবেশনের সঞ্চালনা ও ধন্যবাদ বক্তব্য প্রদান করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব সদস্য সচিব, সম্মেলন প্রস্ততি পরিষদ। সম্মেলনের কৌশলগত অধিবেশনে সম্মেলনের খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আব্দুল মতিন। সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনসমূহ ও সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ উপস্থাপন করেন বৈজ্ঞানিক অধিবেশন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক এম শহীদুল ইসলাম ও সাধারণ কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল।

সত্যব্রত সাহা বলেন, সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে আমি জনগনের কাঠগড়ায় দাড়াতে চাই এবং সমস্যার সমাধানে সরকার ও জনগণ একসাথে কাজ করতে হবে। আলী আহমেদ খান বলেন, দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব পালনে আরো আন্তরিক হতে হবে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবিষ্যত্ব দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য আরো আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশে ভূমিধসের মূল কারণ মানুষের সৃষ্টি। পরিবেশ বিধংসী উন্নয়নই শুধু পরিবেশ ধ্বংস করছে তা নয়। ঝুঁকিতে ফেলছে লক্ষ মানুষের জীবন। সরকার এই দায় এড়াতে পারে না। প্রতিবারই দায়ীত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করেও ছাড় পেয়ে যান।

ড.নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের পরিবেশ বিরোধী ভুল উন্নয়ন কর্মকান্ড, নীতি ও পরিকল্পনা বন্যা,জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিকল্প নেই। সরকারী নীতি-নির্ধারকদের অবশ্যই স্থানীয় মানুষের মতামত নিতে হবে।

ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকার চারপাশের নিচুভূমি দখলদারের ভরাটের পাশাপাশি সরকারী বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রম ঢাকার জলাবদ্ধতাকে ভয়াবহ করে তুলছে। ঢাকায় বন্যা এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধানে স্বাভাবিক, প্রাকৃতি-প্রদত্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করে কৃত্রিম, ব্যয়বহুল পাম্প-নির্ভর নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রবর্তনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

শরীফ জামিল বলেন, সরকারের ভুল নীতি আর অবকাঠামো সারাদেশে জলাবদ্ধতা, ভূমিধসের পরিমান বাড়াছে। বাড়ছে মানুষের মৃত্যু আর এই মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রের। দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত উপস্থাপকরা বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মাঝে পার্বত্য চট্টগ্রামে এখানে পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষার আন্দোলন করা কঠিন। রাষ্ট্রীয় নানা বাধা আর স্থানীয় আন্দোলনকারীদের দমনে স্বার্থানেষীদের মামলার ফাঁদ পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করছে। ভবদহ, কুমিল্লা, চলনবিল, হবিগঞ্জসহ সারাদেশে থেকে আগত জলাবদ্ধতার ভুক্তভোগিদের উপস্থাপনায় সুস্পষ্ট হয় সরকারের ভুল নীতি আর জনমতকে উপেক্ষা করে তৈরি বাঁধ এবং পানি প্রবাহকে বাধা দিয়ে তৈরি স্থাপনাই জলাবদ্ধতার সমস্যাকে প্রকোট করে তুলেছে। তাছাড়া রেহিঙ্গাদের অবাধ বসতি স্থাপনের ফলে বন উজার হচ্ছে এবং পাহাড় ধসের মাধ্যামে হতাহতের আশংকা বাড়ছে।

সম্মেলনে বাপা, বেন, সহ-আয়োজকবৃন্দের সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি, পেশাজীবি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবা, গণমাধ্যম সদস্য ও পরিবেশ বিপর্যস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ, সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থার প্রতিনিধি সহ চার শতাধিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ গ্রহন করেন।

উল্লেখ্য যে, দুইদিনব্যাপী সম্মেলনে মোট বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ৬১টি, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস এর উপর ২০টি সামাজিক উপস্থাপনা হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থাপিত এ সকল প্রবন্ধের সুপারিশ ও অংশগ্রহকারীদের মতামতের আলোকে একটি খসড়া প্রস্তাব(সংযুক্ত) গ্রহণ করা হয়।