আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি নিজেও অসহায়, অসহায়ত্ব আমার মধ্যেও কাজ করে। আমি কি মানুষ নই? আমি মন্ত্রী, আমি কি দায় এড়াতে পারব?’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে দেশের পরিবহন খাত নিয়ে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে কার সঙ্গে আলাপ করব? আসলে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশের যেখানেই যান, শুধু কর্মযজ্ঞ চলছে। রাস্তা, ব্রিজ। জন্মকালে তো ব্যথা হয়। রাস্তা হবে, ব্রিজ হবে—এর কি বার্থপেইন আছে না? এটা মানবেন না কেন? আমাদের দেশে মিডিয়ার একটা অংশ এটাকে রাজনীতিতে নিয়ে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব, আমাকে কোণঠাসা করে লাভ নেই। আমার মধ্যেও সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমি লড়াকু থাকব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু হতাশ হব না। সমালোচনা আমাকে শুদ্ধ করে। আপনারা যারা বিরূপ সমালোচনা করেন, এরাও একদিন বুঝবেন এই সমালোচনা সঠিক নয়।’

চালকদের সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘কেউ রাস্তার শৃঙ্খলা মানে না। ছোট ছোট ব্যাটারিচালিত গাড়ি, যাত্রীরাও জানে এগুলোতে উঠলে বিপদ আছে। একজনও বাঁচে না। তারপরও এই গাড়িগুলোতে ওঠে। তিনি বলেন, তারপর আমাদের চালকেরা কার আগে কে যাবে, কত ট্রিপ নিলে কত লাভ হবে। এ বিষয়টাই মাথায় থাকে। মানুষের জীবন নিয়ে আমাদের খুব কম মানুষেরই মাথায় থাকে। আমার টাকা, আমি কত লাভ করলাম—এটা প্রাধান্য পায়। তখন তো এখানে আমাদের অনেক কিছু ভাবতে হবে।’

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের বিরোধ বাধানোর উসকানি বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমি বিএনপি নেতাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, তাঁরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, স্থানীয় বা জাতীয় কোনো নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করেছেন?’ তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে অনেকে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানকে (সেনাবাহিনী) বিতর্কিত করবেন না। সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনী বলে চিৎকার করে আপনারা একটি উসকানিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের একটা বিরোধ বাধানোর উসকানি দিচ্ছেন। এটা দেশের জন্য ভালো নয়। আপনি নিজে যেটা করেননি, সেটার জন্য কেন বলছেন?

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমরা কখনো বলিনি, আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে। কিন্তু পরিস্থিতি কি সে রকম? যত নির্বাচন হলো, তাতে কি সে পরিস্থিতি হয়েছে? তাহলে অযৌক্তিকভাবে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি তুলে এ প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করতে চান কেন? এটা আমার প্রশ্ন।’