মনির হোসেন সজিব, নোয়াখালী প্রতিনিধি ঃ নোয়াখালী জেলার সেনবাগে অর্জুনতলা ইউনিয়নে চাচুয়া গ্রামে স্বামী মোশারেফ হোসেন (৩৮), শাশুড়ী সাজিবা বেগম গংদের নির্মম-নির্যাতন নিপিড়নের শিকার হয়ে দুই সন্তানের জননী গৃহবধু আমেনা বেগম (২৬) খুন হয়েছে।
জানাযায়, সেনবাগের অর্জুনতলা ইউনিয়নের চাঁচুয়া গ্রামের বারেক এর নতুন বাড়ীর আবদুল বারেক এর পুত্র মোশারেফ হোসেন দীর্ঘদিন থেকে বেগমগঞ্জ দূর্গাপুরের মেয়ে স্ত্রী আমেনা বেগমকে বেদম মারধর সহ নির্যাতন-নিপিড়ন করতো। গত ১৪ মার্চ বুধবার গভীর রাতে মোশারেফ হোসেন গং স্ত্রী আমেনা বেগমকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাপক মারধর নির্যাতন-নিপিড়ন, রক্তাত্ব জখম ও গলা টিপিয়া শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। সকালে নির্যাতন-নিপিড়নের শিকার হয়ে আমেনা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য শাশুড়ী সাজিবা বেগম ও স্বামী মোশারেফ হোসেন গংরা সকাল ৮ ঘটিকার সময় জোরপূর্বক তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। তার অবস্থা আরো অবনতির ফলে দ্রুত আমেনা বেগমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বামী, শাশুড়ী গংরা সাড়ে ১১ ঘটিকায় (ওয়ার্ড নং- ৫, বেড নং- ৯) ভর্তি করে দেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে আমেনা বেগমের স্বামী ও শাশুড়ী একে একে মৃত দেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শি ওয়ার্ড বয় শিমুল জানায়, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে রক্তাক্ত ও ফোলা-জখম দেখা যায়।
আয়া মনেয়ারা বেগম জানায়, আমেনা বেগমকে যখন বাথ রুমে নেওয়া হয়, তখন তার শরীরে কোন শক্তি ছিলো না। সে আরো জানায় তখন তার লজ্জাস্থান দিয়ে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো।
পাশের বেডে থাকা একটি রোগী জানায়, তাকে বেদম নির্যাতন-নিপিড়ন করায় গাঁড়ে তার রক্তাত্ব ফুলা-জখম দেখা গেছে।
নিহত আমেনার ভাবী রৌশন আক্তার সাংবাদিকদের কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমেনার মৃত্যুর পূর্বে বার বার কি হয়েছে কি হয়েছে জানতে চাইলে, সে হাতের ইসারায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাথা হয়েছে বলে মুখে হাত দিয়ে দেখায়। নির্যাতকারীরা স্বামী তাকে মুখের ভিতর জোরপূর্বক কি ঢুকিয়ে দিয়েছে। এ যন্ত্রনায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেলা ২ ঘটিকার সময় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।
তার ভাই আবু নাছের সবুজ ও বোন কাজল এই হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার পরবর্তি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় জনমনে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুধারাম মডেল থানার পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে আমেনার পিটে মারধরের আঘাতের চিহ্ন ও লজ্জাস্থান দিয়ে রক্তাক্ষরণের দৃশ্য রয়েছে বলে জানাযায়।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি জিডি হয়। যাহার নং- ৬৪২, তাং-১৫.৩.১৮ইং। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ তার পৈত্তিক নিবাস বেগমগঞ্জ দূর্গাপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।