ঢাকা, ২৮ ফাল্গুন (১২ মার্চ ) :
‘কাঠমান্ডু ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের’ সন্নিকটে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। পনপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রাপ্ত খবরে বলা হয়, দূর্ঘটনার পর-পরই নেপালী কতৃপক্ষ দংর্ঘটনা-কবলিত উড়োজাহাজে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
পাইলট, পকা-পাইলট ও ২ জন ক্রু এবং ৬৭ জন আরোহীসহ ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটি নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে ‘কাঠমান্ডু ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে’ অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয়।
নেপালের সরকারি মুখপাত্র নারায়ন প্রসাদ দাওদি বলেছেন‘ আমরা বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ থেকে লাশ ও আহতদের বের করছি’। বার্তা সংস্থা এএফপি’র রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়েছে। ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের পূর্বদিকের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত বিমানটির স্থান থেকে কালো ধোয়ার কুন্ডলী উড়ার ছবিও টেলিভিশনে দেখা গেছে।
এরআগে নেপালের বেসামরিক বিমান কতৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান,বিধ্বস্ত বিমান থেকে মারাত্মক আহত ২১ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার কাজে সহযোগিতার জন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান,বিধ্বস্ত বিমানটিতে ৪ জন ক্রু এবং ৬৭ জন যাত্রীসহ মোট ৭১জন আরোহী ছিল।
ইউএস-বাংলা এয়ার লাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর) কামরুল ইসলাম
আজ  প্রতিনিধির কাছে কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘আমরা কাঠমান্ডু টিআইএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের সময় এস-২-২১১ নম্বর ফ্লাইট (এজিইউ) ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে হযরত শাহজালাল (রহ:) বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে টিআইএ গিয়ে বিমানটি অবতরণকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদেরকে জানান, ‘বিমানটি উড্ডয়নের দেড় ঘণ্টা পর আমরা দুর্ঘটনার সংবাদ পাই। ঘটনার পর থেকে ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট বন্ধ রয়েছে। এয়ারপোর্ট খুললে আমরা আমাদের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেখানে পাঠাব।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা হতাহতের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। ফ্লাইটটিতে দুই শিশু,নারী সহ ৬৭জন যাত্রী ছিল। এছাড়া পাইলট ও ক্রু চারজন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন বাংলাদেশি, ১ জন মালদ্বীপ, ১ জন চাইনিজ বাকিরা নেপালি যাত্রী।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ আজ জানান, বিমানটিতে ৩৩ বাংলাদেশি যাত্রী ছিল।