ঢাকা, ২ কার্তিক (১৭ অক্টোবর) :
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ নয়, রোডব্লক করার জন্যই ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের আওতাবহির্ভূত অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক এসব প্রস্তাব জল ঘোলা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপপ্রয়াস যা প্রমাণ করে নির্বাচন বিএনপির আসল উদ্দেশ্য নয়।
আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধান তথ্য অফিসার কামরুন নাহার, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার ফায়জুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বরাবরের মতোই আবারো নির্দলীয় সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে, সংসদ ভেঙে দিতে বলেছে, যা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে। অনির্বাচিত কারো দ্বারা সরকার পরিচালনা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচনকালীন তত্ত¦াবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করার পরও বারবার একই প্রস্তাব দেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েনের দাবি করে মূলত বিএনপি অতি দরদ দেখিয়ে সশস্ত্রবাহিনীকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন ছিল। কিন্তু নির্বাচনে হেরে গিয়েই তারা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকার নিন্দা করেছিল। এর আগে ১৯৯৬ সালেও নির্বাচনে হেরে গিয়ে একই কথা বলেছিল তারা। অর্থাৎ সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন থাকা বা না থাকা নয়, হেরে গেলেই বিএনপি বলে- ‘সশস্ত্রবাহিনী ও নির্বাচন নিরপেক্ষ নয়’।
উপস্থিত সাংবাদিকদের মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনকালে মহামান্য আদালতের নির্দেশে ৩০০ আসনের প্রতিটিতে একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চারজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সশস্ত্রবাহিনীর হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। সশস্ত্রবাহিনী প্রস্তুত থাকবে, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সহায়তা করবে। বিএনপি’র লক্ষ্য জঙ্গি-জামাতীদের রক্ষা করা উল্লেখ করে তিনি এসময় বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী ফরমে দলীয় প্রার্থী’র স্থলে ‘দলীয় বা জোটের প্রার্থী’ লেখার জন্য বিএনপি’র দাবি মূলত জঙ্গি-রাজাকার-জামাতীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার অপকৌশল।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তথ্যমন্ত্রী। জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বর্ণনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘জিয়া সামরিকতন্ত্রের প্রবক্তা, গণতন্ত্রের নয়। তিনি রাজাকার-খুনিদের পুনর্বাসন করেছেন। আদালত জিয়ার শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।’ সেইসাথে তিনি বলেন, সাংবিধানিক পদ ইতিহাসচর্চা বা রাজনীতিচর্চার জন্য নয়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নির্বাচনকে ব্যাহত করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো দলের কোনো নেতা-নেত্রীর গ্রেপ্তারের সাথে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন, বিচারপতিগণ স্বাধীন, বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতেই চলছে।