রিপোর্টার নানা: শুক্রবার সকালে শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুস্পমাল্য অর্পনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও বলেছেন নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন, সংসদ ভেঙে দেয়া প্রয়োজন এবং সেনাবাহিনী নিয়োগ করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সেই উদ্যোগ তারা (নির্বাচন কমিশন) গ্রহন করবেন এবং সরকারও এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহন করবেন। আমরা স্প করে বলতে চাই, নির্বাচনকালীন সরকার যদি না তৈরি হয়, পার্লামেন্ট যদি ভেঙে না দেয়া হয়, নির্বাচনের সময়ে সেনা বাহিনী যদি নিয়োগ করা না হয়, সেই নির্বাচন কখনো অর্থবহ হবে না, সকল দলের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না। আগের মতোই যে ক্রাসিস, সেই ক্রাসিস থেকেই যাবে। সহায়ক সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়া ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নেয়ার কিছু নেই- বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা গত দুইদিন আগে বলেছি, নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা- এটা আসলে লোক দেখানো আলোচনা, একটা আইওয়াশ। কারণ প্রথম থেকে তারা (নির্বাচন কমিশন) বলে আসছেন, তারা তাদের এখতিয়ারের বাইরে কোনো কাজ করতে পারবেন না। এখতিয়ারের বাইরে কাজটা দুইটো। নির্বাচনকালীন সময়ে তাদের একটা নিরপেক্ষ সরকার দরকার। অন্যটা হচ্ছে, নির্বাচনের সময়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া অর্থাৎ বর্তমান সংসদ না রাখা। তারা এই দুইটাই যদি না পারেন তাহলে এই নির্বাচন কখনোই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হবে না। যে কারণে আমি মনে করি, যেটা এটা নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে দল দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার দাবিও জানান ফখরুল। নির্বাচনে লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরি না হলে এই নির্বাচন কখনোই অর্থবহ হবে না দেশের মানুষ এটা গ্রহন করবে না।
এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ নেতা-কর্মীদের নিয়ে সকাল ১১টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন।
এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদো আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন আহমেদ, এসএম জাহাঙ্গীর, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহিন, শরীফ হোসেন, মোস্তফা কামাল রিয়াদ, শরীফ উদ্দিন জুয়েল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন নিবিড় পর্যবেক্ষণে
নির্বাচন কমিশনের শেষ হওয়া সংলাপের ফলাফল কী হয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি অপর এক আলোচনায় দলের তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের শেষ হওয়া সংলাপে কী একটা লোকদেখানো এক্সসাইজ? এটা কী সত্যিকার অর্থে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য করা হয়েছে নাকী ক্ষমতা দখলের একটা ষড়যন্ত্রের জন্য করা হয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচন কমিশনের সংলাপের ফলাফল কী হয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, দেশের বাইরে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। খসরু মনে করেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে অবশ্যই সহায়ক সরকারের অধীনে সংসদ ভেঙে দিয়ে করতে হবে এবং নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করতে হবে। রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও হুমায়ুন কবীর ব্যাপারির পরিচালনায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের এই আলোচনা সভায় বিএনপির খায়রুল কবীর খোকন, শিরিন সুলতানা, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, ফরিদউদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।