বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ ও এ্যালায়েন্স ফর ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ এর যৌথ উদ্যোগে আজ ৩ মার্চ ২০১৮, শনিবার, সকাল ১১.০০ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গোলটেবিল মিলনায়তনে (সেগুনবাগিচা, ঢাকা)  (বাংলাদেশে পানি সম্পদ তত্ত¡াবধায়ন ঃ পানি দূষণরোধে কার্যকর কৌশল) শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাপা’র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ এর সভাপতিত্বে সুচনা বক্তব্য রাখেন ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক ও বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল এবং মুলবক্তব্য রাখেন অ্যালায়েন্স ফর ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ-অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মি. মাইকেল স্পেন্সার, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন। নির্ধারিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষনিক সদস্য জনাব মোঃ আলাউদ্দিন, নারী অধিকার কর্মী ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, বাংলাদেশ ওয়াটার পার্টনারশীপ এর সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীণ ওয়াচ এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার; ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ এর ভারতীয় সমন্বয়ক আশীষ ভরদ্বাজ, যুক্তরাষ্ট্রের লেখক লেন বুকনান, বাংলাদেশ ওয়াটার এইড এর প্রোগ্রাম অফিসার রঞ্জন কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, নদীকর্মী মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

মি. মাইকেল স্পেন্সার বলেন, ভবিষ্যত পানি প্রাপ্তি, সংরক্ষণ ও তত্ত¡াবধায়নের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আজ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। নিরাপদ পানি প্রাপ্তিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সুপেয় পানি নিশ্চিত করার জন্য জলাধারগুলোকে দূষণমুক্ত রাখা জরুরী, এজন্য সকলকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি বলেন, জলাধারগুলো দূষণের জন্য যারা দায়ী, যদি তাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনা যায় তবে দূষণরোধ অনেকটাই সম্ভব। নদী-জলাধারগুলো দূষণকারী ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিকভাবেও নিরৎসাহিত করা এবং দূষণ না করলে ব্যবসায়িক লাভের বিষয় সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা দরকার। এজন্য আমরা কতগুলো বিষয়কে টার্গেট করে বিশ্বব্যাপী আমরা জোট গঠনের চেষ্টা করছি। আমাদের উদ্দেশ্যে হলো পানি ব্যবহারকারীগণই পানির তত্ত¡াবধায়ক হিসেবে কাজ করে প্রকৃতি-পরিবেশ ও পানি সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগী হবে। একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমেই নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা যাবে এটি আমাদের বিশ্বাস।

জনাব শরীফ জামিল বলেন, পানি দূষণের কারণ ব্যাপকভিত্তিক। পানির উৎস হিসেবে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করছি, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ব্যাপক দূষণের শিকার। অন্যদিকে চলনবিল, বড়াল নদীসহ সারাদেশের অন্যান্য জলাধারগুলে ব্যাপক দখল ও দূষণের শিকার। যারকারণে ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি প্রাপ্তি আমাদের জন্য বড় ধরণের চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। দূষণের জন্য মুলত: দায়ী শিল্প-কারখানার দূষণ, ব্যবসায়ীক স্বার্থে নদী-জলাধারগুলোকে দূষণ করে যাচ্ছে অনবরত। রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট আইন, আদালতের রায় ও সরকারের নির্দেশনার পরও শিল্প-কারখানায় ‘বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট’ লাগানো হচ্ছে না। যা কারণে নদী-জলাধার দূষিত হয়েই চলছে। নিরাপদ পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন খুবই জরুরী।

অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ বলেন, নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় দূষণ, ভরাট এবং নদী তীরবর্তী এলাকা দখল হওয়ায় পানির উৎসস্থল থেকে নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। পানির চাহিদা মিটাতে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। আশঙ্কার বিষয় প্রতিবছর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনক হারে নেমে যাচ্ছে। পানি সঙ্কট মোকাবিলা ও পানির যোগান নিশ্চিত করতে সকল প্রকার পানির উৎস নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ের দূষণ প্রতিরোধ ও ভরাট বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। জলাধারগুলো রক্ষায় সকলকে আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান তিনি।

জনাব মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নদী ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বড় ধরণের সমস্যা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার অভাবে আজ নদী দূষণ বাড়ছে। শিল্প-কারখানার অনবরত দূষণে নদী-জলাধারগুলো আজ ব্যাপকভাবে দূষিত। যার প্রভাব পড়ছে সুপেয় পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। তিনি নদী ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব রাখেন।

জনাব মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, দেশের নদীগুলোকে দখল- দূষণ থেকে রক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যেখানেই শিল্প দূষণ বা যে কোন ভাবে নদী দখল-দূষণ হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে এজন্য সকল মহলেরই আন্তরিক পদক্ষেপ জরুরী। আমরা সকলকে নিয়ে দেশের নদী-জলাধারগুলোকে রক্ষা করতে চাই। এজন্য যে কোন গ্রহনযোগ্য প্রস্তাবনাকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।

শারমীন মুরশিদ বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে নদী দূষণরোধে একটি কার্যকর কৌশল ও পরিকল্পনা দরকার। আর তা বাস্তবায়নে সকল মহলকেই এগিয়ে আসতে হবে।