শাহারিয়া শাহাদাৎ,রিপোর্টার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ:-চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার হাকরইল গ্রাম থেকে বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মইদুল ইসলাম (৪৩) ও নাসিমা খাতুন (৩৮) স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী মিয়া জানান, গলায় দড়ি পেঁচানো ও চৌকির খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় নাসিমা খাতুনের লাশ ঘরের মধ্যে এবং বাড়ির বাইরে কুমড়ার উঁচু মাচার বাঁশে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামী মইদুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মইদুল ইসলাম স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে। তিনি কিছুদিন থেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা জানান।
নাচোল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহতাব উদ্দিন জানান, নাচোল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা ও মইদুল ইসলামের পিতা সেরাজ উদ্দিন (৭০) বাদী হয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য স্বামী-স্ত্রীর লাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মইদুল ইসলাম একজন খেটে খাওয়া মানুষ। যখন যে কাজ পেত, সেই কাজ করেই সংসার চালাতো। প্রায় দুই মাস আগে থেকে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন মইদুল ইসলাম। গত ১৫ দিন থেকে তাঁর অবস্থা খারাপ ছিল। মানুষজনকে তেড়ে মারতে যেত এবং গালাগাল করতো। সপ্তাহখানেক আগে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে তিনি পালিয়ে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন। বুধবার তাঁকে পাবনায় নিয়ে যাবার কথা ছিল। এজন্য বাড়ির দুটি ছাগলও বিক্রি করা হয়েছিল।
তাঁরা আরো জানান, নাসিমা খাতুন মইদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগেই ছাড়াছাড়ি হয়েছে। মইদুলের দুই তরফের চার মেয়ে ও এক ছেলে। এখন এদের দেখার কেউ রইলো না। ওরা এখন কার কাছে থাকবে? কে ওদের খেতে-পরতে দিবে? দাদা-দাদী বৃদ্ধ। দুই চাচা খুবই গরিব। তাঁদেরই দিন চলে না।