ঢাকা, ২৮ আগস্ট ২০১৭ ঃ
বর্তমান সরকারের সময়ে অসংখ্য ফ্লাইওভার নির্মাণ হওয়ায় যানজট অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। এগুলো নির্মাণে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক দুর্ভোগও দেখা যাচ্ছে। জুলাই হতে জুন পর্যন্ত অর্থবছর হওয়ায় যখন নতুন বরাদ্দ দেয়া হয় তখনই শুরু হয় বর্ষাকাল। এসময় দ্রুত কাজ করার কারণে দেখা দেয় জনদুর্ভোগ। একটি সংস্থা রাস্তা তৈরি করে দিয়ে আসার সাথে সাথে সেটি আবার ওয়াসা খনন করে। কিছুদিন পর দেখাগেল বিদ্যুৎ বিভাগ, তিতাস গ্যাস ও টিএন্ডটি আবার সে রাস্তা খনন কাজ শুরু করে। এ কারণে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর সাথে যেকোন কাজ শুরুর সাথে সাথে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সার্বিক সমন্বয় প্রয়োজন। এতে করে জনদুর্ভোগ প্রায় পুরোপুরি লাঘব করা সম্ভব। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসি মিলনায়তনে ‘নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে করণীয়’ বিষয়ক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলা যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন তরুণ বিতার্কিকরা অনুষ্ঠানে সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকায় যে বক্তব্যগুলো উপস্থাপন করেছে তা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ, যা জাতীয় সংসদে অনুসরণযোগ্য। তরুণদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজে সচেতনতা গড়ে উঠবে এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার মাঝে সমন্বয়ের সদিচ্ছা জাগ্রত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সমন্বয়হীন কর্মকান্ডে একদিকে যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম নগরী জলবদ্ধতা দূরীকরণসহ নাগরিক ভোগান্তি কমছে না। অন্যদিকে, শত উন্নয়ন কর্মকান্ড চললেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নাগরিক দুর্ভোগ কমছে না। উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিকভাবে সমন্বয় না হওয়ায় দিনে দিনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। কিছু সময়ের বৃষ্টিতেই সড়ক-মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়া, জলাবদ্ধতা, মশক নিধন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, বিকল্প কর্মসংস্থান না করে হকার উচ্ছেদ, অনিরাপদ পার্ক, বর্জ্য দূরীকরণে অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। তবে নগরবাসীও বিনাকারণে পানির কল ছেড়ে রাখা, যত্রতত্র ময়লা ফেলা, গ্যাসের চুলো জ্বালিয়ে রাখা, ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করাসহ নানানরকম অসচেতনতামূলক কার্যক্রম লিপ্ত থেকে নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিযোগিতায় প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিক দল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিমন্ত্রী বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। এ প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুল আলম ও গণবিশ^বিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি শিরীনা বিথী ।