ঢাকা, ১৬ আশ্বিন (১ অক্টোবর) :

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নামে মুসলমান হলেও ইয়াজিদ ও মীরজাফরের মতোই রাজাকার-জঙ্গি-জামাতিরা ইসলাম ও দেশের শত্রু। এরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এদের সাথে কোনো মিটমাট নয়, আপোশ নয়।
রোববার দুপুরে হিজরি সনের ১০ মহররম (পবিত্র আশুরা) উপলক্ষে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের গড়পাড়ার ইমামবাড়িতে দেশের সর্ববৃহৎ আশুরা সমাবেশে বিশ সহ¯্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন।
হাসানুল হক ইনু এসময় ইমাম হোসেন, ইমাম হাসান ও তাদের সঙ্গীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, পবিত্র আশুরা শুধু শিয়া মতাবলম্বীদের নয়, সকলের জন্যই এক স্মরণীয় বেদনার দিন। ইমাম হোসেনকে যারা হত্যা করেছিল, তাদের বংশধর রাজাকার-জঙ্গি-জামাতিরাই আজ মানুষ মারে, পোড়ায়, মন্দির-মসজিদে আগুন দেয়।
ইয়াজিদদের সঙ্গে যেমন ইমামেরা কোনো আপোশ করেননি, তেমনি রাজাকার-জঙ্গি-জামাতিদের সাথেও কোনো আপোশ-মিটমাট চলে না, কারণ এরা ইসলাম ও দেশের শত্রু, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা মিটমাটের কথা বলেন, তারা এই নব্য ইয়াজিদদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে বাঁচিয়ে রাখতে চান। কিন্তু মানুষে মানুষে সম্প্রীতি আর শান্তির ধর্ম ইসলাম রক্ষায় এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে ধ্বংসের কোনো বিকল্প নেই।
গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরিফের খাদেম শাহ্ মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দীন, মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তোবারক হোসেন লুডু, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইকবাল হোসেন খানসহ দেশের ও মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ইমামবাড়ির আশুরা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
আজ থেকে ১৩৭৮বছর আগে হিজরী ৬১ সনের এই দিনে বর্তমান ইরাকের কারবালা প্রান্তরে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র মহাপ্রাণ ইমাম হোসেন ও তাঁর সঙ্গীদের ইয়াজিদের চক্রান্তে শাহাদতবরণের হƒদয়বিদারক ঘটনাকে প্রতিবছর পরম ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়।
পাপিষ্ঠ, দুরাচার ইয়াজিদের হাত থেকে ইসলামকে রক্ষা করা পুণ্য আত্মার স্মরণে ১০ মহররম আশুরার দিন বিশ্বব্যাপী আয়োজিত শোক মিছিলে কোটি কোটি মানুষ যোগ দেয়। রাজধানীর অদূরে মানিকগঞ্জের এই গড়পাড়া ইমামবাড়ি থেকে স্মরণাতীতকাল হতে মহররমের মিছিল বের হয়। শুধু শোক মিছিল বের করা নয়, ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে কারবালার শোকবিধুর ঘটনা, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আসছে গড়পাড়া ইমামবাড়ি।