ইন্টারন্যাশনাল রিভারস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) ও সলিডারিটি-এর যৌথ উদ্যোগে আজ ২৫শে অক্টোবর ২০১৭, বুধবার, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে “বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কথা” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাপা’র সহসভাপতি সুলতানা কামাল এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন। এবিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) এর নির্বাহী পরিচালক ও বাপা’র যুগ্ম-স¤পাদক শরীফ জামিল।
ইন্টারন্যাশনাল রিভারস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) ও সলিডারিটি কর্তৃক প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটিতে গত এগারো মাসে এগারোটি জেলার নদীপাড়ের মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরা হয়। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বাংলাদেশ অংশে জলবায়ুূ পরিবর্তনের অভিঘাত এবং উজানে নদীর প্রতি বাণিজ্যিক আচরণ কিভাবে সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রাকে বিলীন করে দিচ্ছে, সেই চিত্র এই প্রতিবেদনটিতে ফুটে উঠে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট অন্য দেশসমূহ অর্থাৎ চীন, ভারত ও ভূটানের নদীকর্মীদের যৌথ মতামতের ভিত্তিতে নাগরিক দিকনির্দেশনা আলোচিত হয়।
সুলতানা কামাল বলেন, নদীর সাথে মানুষের জীবন ও জীবিকার গভীর স¤পৃক্ততা রয়েছে। দেশের মানুষের কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমানে এর অনিয়মিত এবং ধ্বংসাত্মক আবির্ভাব দেশের মানুষকে হতভম্ব ও বান্তুচ্যুত করে তুলেছে। নদী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা তাদের কাজগুলো গুরুত্ব সহকারে করছেন না। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বসবাসরত মানুষদের রক্ষা করতে হলে ব্রহ্মপুত্রকে প্রবাহমান রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট চারটি দেশকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শারমীন মুরশিদ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের কাহিনীটি শুধু বাংলাদেশের নয়, এর সাথে জড়িত রয়েছে আরো ৪টি দেশ। যারা শাসন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে নদী ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আঞ্চলিকভাবে সমাধানের জন্য সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে। সিকিমে বসবাসরত যে মানুষগুলো পানি প্রাচুর্র্য নিয়ে বাস করত এখন তারা পানিশূন্য। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাকে রক্ষা করতে হলে ভিন্ন চারটি দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি একমাত্র নদী যা বাংলাদেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পানি সরবরাহ করে। তবে উজানের দেশ চীন ও ভারতের এই নদীটির উপর বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। নদী সম্পর্কিত কোন সমন্বিত নীতি ও সুনির্দিষ্ট আইনী কাঠামো না থাকায় নদী ব্যবস্থাপনার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি জাতিসংঘ পানি প্রবাহ সনদ ১৯৯৭ এ অনুস্বাক্ষর করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশসমূহকে স্বাক্ষর করতে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ জানান।
শরীফ জামিল বলেন, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বাংলাদেশ অংশে প্রধান চারটি নদী তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র পাড়ের সকল মানুষদের আজ শুকনো মৌসুমে চরম পানিস্বল্পতা আর বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিক বন্যার মুখোমুখি হতে হয়। সমগ্র ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বাংলাদেশ অংশে খরা ও নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে বিপুল জনগোষ্ঠী উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় চীন, ভুটান ও ভারত কর্তৃক একতরফা বাণিজ্যিক প্রকল্পসমূহ পূনর্মূল্যায়নে আঞ্চলিক সাংগঠনিক কাঠামো ও পারস্পরিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যে মূহুর্তে আবশ্যক, সে মুহুর্তে যথাযথ জনসম্পৃক্ত যৌথসমীক্ষা ব্যতিরেকে নৌ-চলাচলের নামে অপরিকল্পিত নদী খনন এবং আন্তঃনদী সংযোগ মেগা প্রকল্পের মত উদ্যোগ গ্রহণ দুঃখজনক।