ঢাকা, ০৯ মে ২০১৭

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার) বলেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও গৌরব বেড়েছে। তিনি জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী বাংলাদেশের মর্যাদা ও গৌরব সমুন্নত রেখে পেশাদারিত্বের সাথে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আপনাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

আইজিপি আজ বুধবার বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে শান্তিরক্ষা মিশনগামী পুলিশ সদস্যদের প্রি-ডেপ্লয়মেন্ট ব্রিফিংকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

আইজিপি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শৃঙ্খলা হবে প্রথম ও শেষ কথা। কোনক্রমেই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। আপনাদের প্রধান পরিচয়, আপনারা বাংলাদেশী। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সবার আগে দেশের সম্মান ও মর্যাদার কথা ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা যে দেশে মিশনে কাজ করবেন, সে দেশের মানুষের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, প্রথা, ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সে দেশের মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানবিক বিপর্যয়ে তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
আইজিপি অত্যন্ত উঁচুমানের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য ‘ব্লু হেলমেট’ পরিহিত বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইঅঘঋচট-১, টঘঅগওউ দারফুর, সুদান মিশনের উদ্দেশে ১৪০ জন পুলিশ সদস্য আগামী ১৫ মে ২০১৮ ঢাকা ত্যাগ করবেন। এ কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সুপার ড. মোঃ সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার। ১৮০ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফিমেল কন্টিনজেন্ট ইঅঘঋচট-১, গঙঘটঝঈঙ, উজ ঈড়হমড় মিশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে ১৬ মে ২০১৮। এ কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হলেন ফারজানা ইসলাম। এছাড়া ড. মামুন আল আনসারীর নেতৃত্বে ৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা দক্ষিণ সুদানে ইন্ডিভিজ্যুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) হিসেবে যোগদান করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মোঃ মহসিন হোসেন, এনডিসি এবং ডিআইজি (এইচআর) মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ। এছাড়া, এআইজি (ইউএন অ্যাফেয়ার্স) এবং সংশ্লিষ্ট কমান্ডারগণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মিশনগামী পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দারফুর, হাইতি, কঙ্গো, মালি ও দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যগণ পেশাদারিত্ব ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১৮ হাজার ১০২ জন সদস্য মিশন সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করেছেন ২০ জন অকুতোভয় বীর পুলিশ সদস্য।