ঢাকা, ২২ চৈত্র ( ৫ এপ্রিল ) :
নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জনগণের সচেতনতার ফলে নৌদুর্ঘটনা কমে এসেছে। বিগত তিন বছরে কোনো লঞ্চডুবি হয়নি। নৌদুর্ঘটনা হ্রাস ও নৌযান নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে। আগে নৌযান তৈরি করে মালিকরা নকশা অনুমোদন করে নিত। এখন আর সে সুযোগ নেই, এখন প্রথমে নকশার অনুমোদন করে নিতে হয়। নকশার বাইরে কোনো জাহাজ নির্মাণ করা যায়না।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আজ ঢাকায় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ-২০১৮ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এবছর নৌনিরাপত্তা সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নৌশিল্পে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, যাত্রা হবে নিরাপদ এটাই আমাদের চাওয়া’।
মন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নদী ও নৌযান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। এজন্য অভ্যন্তরীণ নদীপথে যাত্রী ও মালামালের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে উপনীত হয়েছে। নৌশিল্পের বিকাশ তথা নৌপথের উন্নয়নে সরকার উন্নয়ন বাজেটে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। লঞ্চে এখন লিফট ও অসুস্থ রোগিদের জন্য ইনসেন্টিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নৌনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সরকার নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেটি যেন পুনরায় দখল হয়ে না যায় সেজন্য নদী তীরে ‘ওয়াকওয়ে’ স্থাপন করা হয়েছে। নদীগর্ভে স্থাপিত অবৈধ ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী নৌনিরাপত্তা সপ্তাহের কর্মসূচির মধ্যে নৌর‌্যালি, দেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে নৌসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি, নৌসেক্টরে বিভিন্ন কাজে অবদান রাখার জন্য পুরস্কার প্রদান, সারাদেশে অরেজিষ্ট্রিকৃত নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ইত্যাদি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম চৌধুরী, সংসদ সদস্য বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম।