ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব ভিজ্যুয়ালি হ্যান্ডিক্যাপড (এনএফএভিএইচ) এর আয়োজনে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দৃষ্টিহীনদের জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতা-২০১৭। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করছে ওয়ালটন গ্রুপ।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতা ১৮ অক্টোবর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর (হেড অব স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার ডন, এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গাজী সাইফুল তারেক, আন্তর্জাতিক বিচারক হারুন অর রশিদ, ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব ভিজ্যুয়ালি হ্যান্ডিক্যাপড (এনএফএভিএইচ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৫ অক্টোবর ‘৪৯তম বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস।’ এই দিবসকে সামনে রেখেই মূলত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক দৃষ্টিহীন দাবাড়––কে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি করে সাদাছড়ি দেওয়া হবে। এবারের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ৬০ জনের অধিক দৃষ্টিহীন দাবাড়– অংশ নেবেন।

প্রতিযোগিতার শীর্ষ দশজনকে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে। এ ছাড়া আরো দশজন নারী দৃষ্টিহীন দাবাড়–কে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) এ বিষয়ে বলেন, ‘সবার সঙ্গেই ওয়ালটন গ্রুপ কাজ করতে আগ্রহী। সমাজের বিভিন্ন ধরণের সুবিধবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং করতে চাই। যাতে সমাজের প্রত্যেকটি ট্রাকের মানুষই খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। দৃষ্টিহীনদের দাবা একটি ভিন্ন ধরণের আয়োজন। গেল বছরও এই আয়োজনের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। সামনেও সমৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করব। দাবা ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা সব সময় বিশেষ শ্রেণির দাবাড়–দের সহায়তা করে থাকে। এই প্রতিযোগিতার শীর্ষ দশজনকে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি দশজন দৃষ্টিহীন মহিলা দাবাড়–কেও হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে। আমি এই প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।’

ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব ভিজ্যুয়ালি হ্যান্ডিক্যাপড (এনএফএভিএইচ) এর মহাসচিব ও এক্সিকিউটিভ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ওয়ালটন গ্রুপ গেল বছরও আমাদের এই প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। এবারও তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সে জন্য ওয়ালটন গ্রুপের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আগেও বলেছি আমাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বিনোদনের বিষয়টা খুবই উপেক্ষিত। আমরা বিনোদনটা উপভোগ করতে পারি না। ওয়ালটনের মতো কোম্পানিগুলো আমাদের বিনোদনের বিষয়ে এগিয়ে আসলে আমরা খুবই উপকৃত হব। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দিব। তারা নানাভাবে আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করছে। এবারের এই প্রতিযোগিতায় ৬০ জনের অধিক দৃষ্টিহীন দাবাড়– অংশ নিবে।’

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গাজী সাইফুল তারেক ও আন্তর্জাতিক বিচারক হারুন অর রশিদ ওয়ালটন গ্রুপের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতা ছাড়াও দাবা ফেডারেশন দৃষ্টিহীনদের জন্য দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।