বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর জন্য দুদক হাইকোর্টে আপিল করায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দুদক হলো সুধাভবনের নানাবিধ এক্সটেনশন। প্রধানমন্ত্রী যা চাচ্ছেন দুদক তাই করছে। দুদক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর আজ্ঞাবহ। রবিবার দুপুরে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, ‘বিদেশিদের কাছে দেন-দরবার করে লাভ হবে না। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচন করা বিশ্বের কোথাও নজির নেই।’ আমি ওবায়দুল কাদের কে বলতে চাই নিজেদের জনসমর্থনহীন ক্ষমতা ধরে রাখতে গোপন আঁতাতের জন্য আপনারাই সুইজারল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচনের নজির আপনারাই সৃষ্টি করেছেন, এটি কী ভুলে গেছেন ? ওই সময়ে ১৭৩ দিন হরতাল দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার নজির আপনারাই স্থাপন করেছিলেন।
রিজভী আরো বলেন, আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে জানতে চাই-পৃথিবীর কোন দেশে সংসদ ভেঙ্গে না দিয়ে নির্বাচন হয়? এই নজির কী আছে পৃথিবীতে কোথাও? আপনারা এবং আপনাদের দোসর এরশাদই জাতীয় সংসদ বহাল রাখার কথা বলছেন। এরশাদ বলবেন এজন্য যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হাত খরচা পান। আর আপনি বলছেন চাকরি রক্ষার্থে। পুলিশি প্রহরায় গণতন্ত্রকে জিম্মি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের তাল-বেতালের কথাবার্তায় মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচার তকমা পেয়ে এখন আপনাদের মুখে গণতন্ত্র ও জনমতের কথায় অবলা প্রাণীও হেসে ওঠে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই শুধু নয় তাদের সমর্থকরাও স্বৈরাচারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে লজ্জায় ডুবে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে আরও বলতে চাই, আবারও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার নীল নকশা কোনদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না জনগণ।’
রিজভী বলেন, দুঃশাসনের প্রকোপ এখন বিপজ্জনক রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপিসহ বিরোধীশক্তি এবং বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ শেখ হাসিনার চরম রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার। অন্তহীন ক্ষমতালিপ্সার কারণে জনগণের বদলে বন্দুককেই নিরাপদ মনে করছে এই সরকার। তাই বিরোধী আন্দোলনকে দমাতে দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাজানো হয়েছে।
তিনি জানান, আগামীকাল মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে সকালে গুলশান থেকে নেতাকর্মীরা সাভার স্মৃতিসৌধে যাবে। পরে সেখান থেকে ফিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এবং জাসাসের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।