গত তিন দিন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার একটি বহর জমিয়তুল উলামার সহসভাপতি মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল্লাহ কাসেমী ও মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীনের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে তারা সরাসরি কক্সবাজারের টেকনাফের গুনধুম সীমান্তে শত মাইল হেঁটে আসা মুসলিম রোহিঙ্গা নাগরিকদের হাতে হাতে গুঁজে দিয়েছেন অর্থ।
মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ বলেন, চোখের ভাষা কেমন, চোখের অশ্রু দেখে নির্ণয় করা যায়। হৃদয়ে এটুকু আনন্দ ছিলো যে রোহিঙ্গা শিবিরে আসতে পেরেছি। সামান্য অর্থ পেয়ে তাদের মুখের হাসির ঝিলিক আমার হৃদয় থেকে সরছে না।
২৩ সেপেটেম্বর ২০১৭ শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার কেন্দ্রীয় দফতর খিলগাঁয় জমিয়তুল উলামার ত্রাণ বিষয়ক মতবিনিময়ে এসব কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ জমিয়তু উলামার প্রচার সম্পাদক ও প্রেসসচিব সাংবাদিক মাসউদুল কাদিও স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
সীমান্তে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কীভাবে ত্রাণ দিয়েছেন সে বর্ণনা দিলেন জমিয়তুল উলামার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শুয়াইব আহমদ। তিনি বলেন, দু-একটি নোট পেয়ে খুশিচ্ছটা ছড়িয়ে পড়েছিল সীমান্তে।মনের হাজার কষ্ট দূর হয়ে যায়। নিজেকে বড় ভাগ্যবান মনে হয়েছে- এই সীমান্ত পর্যরন্ত আসতে পেরেছি। নদী পেরিয়ে সেই বালুখালির গহীনে কত মা-বোন দেখলাম, তাদের সামনে তো কিছুই ছিলো না। সেখানে পৌঁছে তাদের পেয়ে আমরাও খুশি হয়েছি। এরকম শতত অসহায় মানুষের হাতে হাতে কিছু কিছু অর্থ গুঁজে দিতে পারলাম।
জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বলেন, প্রায় দশ লাখ টাকা আমরা দুই হাজার পরিবারের কাছে বিতরণ করেছি। আগামীতে জমিয়তুল উলামা হিন্দ, জমিয়তুল উলামা তুর্কীর সহযোগিতা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা রোহিঙ্গাদের জন্য এক হাজার আবাসন, এক হাজার টয়লেট, মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ
এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের দ্বিতীয় কাফেলা যাত্রা শুরু করেছে।
এ বহরে আরও ছিলেন মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান, খালেদ আহমদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা হারুনুর রশিদ, মাওলানা মুজিবুল হক প্রমুখ।