কথায় আছে, মাছে-ভাতে বাঙালি। বাঙালির সবচেয়ে প্রিয়, সুবিধাজনক, আর আরামদায়ক খাবার হচ্ছে ভাত। অথচ এই ভাতই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ভিলেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবার তালিকা থেকে অনেকেই ভাতকে বাদ দিচ্ছেন। অনেকে আবার বুঝে উঠতে পারেন না ঠিক কতটা ভাত খাওয়া উচিত। কতটা খেলে পেটও ভরবে, অথচ মোটাও হবেন না। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের নিউট্রিশনিস্ট জামুরুদ প্যাটেল জানাচ্ছেন, যদি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে খান তা হলে ভাত খেলে কখনই মোটা হবেন না। সেই সঙ্গেই খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার।

ভাত খাওয়ার সঙ্গে ফাইবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিকদের জন্য। তাই নিরামিষ বিরোধী হলেও অবশ্যই ভাতের সঙ্গে সবজি, ডাল, দই খান। আবার ভাতের মধ্যে যে প্রচুর পরিমাণ স্টার্চ রয়েছে তা শরীরে সঞ্চিত গ্লুকোজ ভেঙে রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায়। তাই তা সামাল দিতেও ডায়াবেটিকদের ফাইবার খাওয়া প্রয়োজন।

প্রতি দিন ঠিক কতটা ভাত খাওয়া উচিত?

প্যাটেলের মতে, কতটা ভাত খাওয়া উচিত তা নির্ভর করে সেই দিনে কতটা ক্যালোরি প্রয়োজন তার উপর। অর্থাৎ, আপনি কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন তার উপর। নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যায় না। যদি মনে করেন আপনি বেশি ভাত খেয়ে ফেলছেন, তা হলে সাদা ভাতের বদলে খেতে পারেন ব্রাউন রাইস। যা ক্যালোরির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ডায়েটে যোগ করবে ফাইবার। পুষ্টিগুণ একই রেখে।

ভাত শুধু পুষ্টিকর খাবারই নয়, কার্বোহাইড্রেট যেমন আমাদের এনার্জি জোগায়, তেমনই ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি, মাছ, ডিম, চিকেন খেয়ে থাকি আমরা। যা কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে যোগ করে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার। তাই সুস্থ থাকার জন্য মিল হিসাবে ভাত খুবই উপকারী।

১০০ গ্রাম সাদা ভাতে পুষ্টির পরিমাণ
ক্যালোরি: ৩৫৭ কিলো ক্যালোরি
প্রোটিন: ৮ গ্রাম
ফ্যাট: ০.৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: ৭৮ গ্রাম
ফাইবার: ২.৮ গ্রাম (২ গ্রাম সলিউবল ফাইবার ও ০.৮ গ্রাম ইনসলিউবল ফাইবার)