ঢাকা, ২ নভেম্বর :

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, টেবিলে রোগী ফেলে রেখে এক মূহুর্তের জন্যেও কর্মবিরতি পালন গ্রহনযোগ্য নয়। চিকিৎসকরা ধর্মঘটে গেলে সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত থাকে। জনগণ ভুল বুঝে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অর্জন আজ সারা বিশে^ অনুকরণীয়। সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সাফল্যের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের চিকিৎসকদের অবদান যথেষ্ট। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা বন্ধ রাখলে চিকিৎসক সমাজের উপর জনমনে ভ্রান্ত ধারণার জন্ম নিবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের উপর যারাই হামলা করুক তারা দুর্বৃত্ত। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে সরকার।

আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

সভায় অন্যান্যের মাঝে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, কলেজ অধ্যক্ষ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইন্টার্নি চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতালে একটি বা দুইটির বেশি প্রবেশদ্বার না রাখার পাশাপাশি ভিজিটর, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের জন্য পৃথক কার্ড চালু করা, একজন রোগীর সাথে দুইজনের বেশি ডিজিটর থাকতে না দেওয়াসহ হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিচালককে নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশকে চিকিৎসকদের জন্য কর্মোপযোগী এবং রোগীদের জন্য সেবাবান্ধব করতে হলে সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আনসার সদস্য বাড়ানো হয়েছে।

শীঘ্রই ঢামেক হাসপাতালকে পাঁচ হাজার শয্যায় উন্নীত করে আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিবে সরকার, এই তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢামেক হাসপাতালের আধুনিকায়নের কাজ হাতে নেয়া হচ্ছে। এই সময় কোনো ধরণের অনভিপ্রেত ঘটনার যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সর্বস্তরে মানুষের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।

বৈঠকের আগে মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত চিকিৎসকদের দেখতে যান। তিনি এসময় তাঁদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দেন।