শাকিল মুরাদ, শেরপুর:

গত দু’দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ ৫টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৩০সেপ্টেম্বর শনিবার ভোররাতে মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এ ঢলের পানি প্রবেশ করে। প্লাবিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে- ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল, গৌরীপুর, হাতিবান্ধা ও মালিঝিকান্দা। এসব এলাকার রোপা-আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢলের পানিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে টানা বার ঘন্টা মুষলধারে বৃষ্টি হয়। সেইসঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবল বেগে মহারশি নদীর রামেরকুড়া এলাকার বেড়িবাঁধের পুরোনো ভাঙ্গা অংশ দিয়ে সদর বাজারে প্রবেশ করে। এতে সদর বাজারের তিন শতাধিক দোকানপাটে পানি প্রবেশ করে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ডাকঘর, সাব-রেজিস্ট্রার, নলকুড়া ভূমি কার্যালয়, যুব উন্নয়ন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, প্রাণি সম্পদ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। সেইসঙ্গে উপজেলার কালিনগর, সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর, দীঘিরপাড়, চতল, লঙ্কেশ্বর, পাইকুড়া, জরাকুড়া, কোনাগাঁও, নয়াপাড়া, দাড়িয়ারপাড়, কান্দুলী, জিগাতলা, বনগাঁও, হাঁসলিবাতিয়া, রাঙ্গামাটিয়া, হাতিবান্ধা, বেলতৈল ও পুরুষোত্তমখিলাসহ ২৫টি গ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়জুন্নাহার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৪ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১৫শ’ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, আকস্মিক এ ঢলে সদর বাজারের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে ভোগান্তি নেমে এসেছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম জানান, ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলা পরিষদ, ঝিনাইগাতী বাজার সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।