মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠিঃ- যখনই পড়তে বসতাম বাবা এসে পাশে বসে থাকতো। দীর্ঘক্ষণ পড়ার পরে যখন অনিচ্ছা শুরু হতো তখন বাবার সাথেই গল্প শুরু করতাম। কিছুক্ষণ গল্প করার পরে আবার পড়াশুনা শুরু করতাম। যতক্ষনই পড়তাম বাবা ততক্ষণই আমার পাশে বসে থাকতেন। যখন কোন পরীক্ষা থাকতো বাবা আমাকে নিয়ে যেতেন। পরীক্ষা শেষ হলে বের হয়ে দেখতাম কেক-জুস নিয়ে সামনে দাড়িয়ে আছেন। আর মা সংসার সামলিয়ে আমাদের সময় দিতেন। তিনি বান্ধবীর মতোই আমাদের সাথে ফ্রি ছিলেন। বাবা-মা দু’জনের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় এ সাফল্য পেয়েছি। ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কৃষি ক্যাডারে নিযুক্ত হওয়া মাহজুবা তাসনিম ঐশী এ কথা গুলো বলেন। সে ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট ও সাবেক সাধারন সম্পাদক একেএম হানিফ’র মেয়ে মাহজুবা তাসনিম ঐশী। তার মা নাজমা সুলতানা একজন গৃহিনী। ১ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ঐশী সবার বড়। ছোট বোন সন্ধী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানি বিষয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং সবার ছোট আতিকুর রহমান ঝালকাঠি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। ঐশী ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে জিপিএ ৪.৮৮ পেয়ে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঝালকাঠি সরকারী মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৪০ পেয়ে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। এরপরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে কৃষি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়ে ২০১৪ সালে জিপিএ ৩.৪১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ওই বছরে কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে জিপিএ ৩.৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি ওয়ার্ডের বিআইপি এলাকায় বসবাস তাঁদের। এ সফলতার জন্য পিতা-মাতার চেষ্টা ও অনুপ্রেরণাই একমাত্র অবলম্বন বলে জানান ঐশী। “মেয়ে হওয়া দুর্বলতা নয়, শক্তি” এ দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাবার সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে নিজের জন্য না হলেও বাবার জন্য বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইচ্ছাই আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে বলে বাবা-মা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঐশী। মেয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এটাই আত্মতৃপ্তি বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন ঐশীর পিতা অ্যাডভোকেট একেএম হানিফ।