রিপোর্টার নানা:

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন নির্বাচনের আগে গুম-খুন করে ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিকে স্থিমিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। ‘২০ দলীয় জোট ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। অতীতেও হয়েছে কিন্তু পারেনি। জোট অটুট আছে। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানকে গুম করার উদ্দেশ্যেই হচ্ছে ভয় দেখানো এবং জোটের রাজনীতিকে স্থিমিত করে দেয়া।’
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করে সঠিক তথ্য না দেয়, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তো রাষ্ট্রই। অথচ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনির দায়িত্ব হচ্ছে যদি কেউ গুম হয়ে যায় তাকে খুঁজে বের করা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গুম শুরু হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন তা সারা দেশে ছড়িয়ে পরেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে কোনও মানুষের নিরাপত্তা নেই। বর্তমান সরকারের আমলে চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের ৩০০ এর কাছাকাছি নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। গুম হচ্ছে মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ। এর পরিণতি হয় করুণ। একদিন না একদিন বিভিন্ন দেশে এর বিচার হয়।’

এমএম আমিনুর রহমানসহ সকল নিখোঁজ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনির প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকার তা মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যেকোনও সভ্য সরকার হলে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সভা ডাকতো।’

‘আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলা করতে জাতীয় ঐক্য তৈরি করা হউক। কিন্তু সরকার তা না করে রোহিঙ্গাদের বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রাণ দিতেও বাধা দিচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘গত ২৭ আগস্ট নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে সাভারে নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে এখনও বাসায় পৌঁছায়নি এমএম আমিনুর রহমান। তাকে দল ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের উপস্থিত ছিলেন খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, অধ্যাপক রেহেনা প্রধান, মোস্তফা জামাল হায়দার, রেদোয়ান আহমেদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, মজিবুর রহমান পেশোয়ারি, সাইফুদ্দিন মনি, সাঈদ আহমেদ, মহিদ্দিন একরাম, এমএম রাকিব, সৈয়দ মাহবুব হোসেন