২০ থেকে ২৫ আগস্ট দেশের ছয়টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় জেএফএ কাপের প্রাথমিক রাউন্ডের খেলা। ছয়টি ভেন্যুর ছয় চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে সেরা দুই রানার্স-আপ দলসহ মোট আটটি দল চূড়ান্তপর্বে উত্তীর্ণ হয়। তাদের নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে চূড়ান্তপর্বের খেলা। ১০ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টের পাওয়ার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

 

চূড়ান্তপর্বের ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা, রাজশাহী জেলা, মানিকগঞ্জ জেলা ও রাজবাড়ী জেলা। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা, টাঙ্গাইল জেলা, কুমিল্লা জেলা ও সাতক্ষীরা জেলা। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনাল খেলবে।

 

আগামীকাল উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে দুপুর ২টায় মুখোমুখি হবে ঠাকুরগাঁও জেলা ও রাজবাড়ী জেলা। আর বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাজশাহী জেলা ও মানিকগঞ্জ জেলা।

 

চূড়ান্তপর্বের বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য আজ বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মিস মাহফুজা আক্তার কিরণ, টুর্নামেন্টের পাওয়ার স্পন্সর ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর (হেড অব স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ অন্যান্যরা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় চূড়ান্তপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ হাজার ও রানার্স-আপ দল ২৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা ৫ হাজার টাক করে পাবে। এ ছাড়া পাওয়ার স্পন্সর ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা গোলরক্ষক, সেরা রক্ষণভাগ, সেরা মিডফিল্ড ও সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর (হেড অব স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘আমরা বরাবরই মহিলা ফুটবলের সঙ্গে কাজ করছি। অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৪ এর বাইরেও আরো বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টে আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করেছি। আমরা জেএফএ কাপের গেল দুই আসরেও ছিলাম। এটা ট্যালেন্ট হান্ট টুর্নামেন্ট। আমরা বিশ্বাস করি এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ভালো কিছু খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং তারা আমাদের অনূর্ধ্ব-১৬ দলকে সমৃদ্ধ করবে। এক সময় তারা জাতীয় দলকেও সমৃদ্ধ করবে। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলকে আমরা শক্তিশালী করতে চাই। সে লক্ষ্যে ইনশাল্লাহ আগামীতেও এই ধরনের টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করব। চূড়ান্তপর্বের সেরা খেলোয়াড়, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা গোলরক্ষক, সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড়, সেরা মিডফিল্ডার ও সেরা স্ট্রাইকারকে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।’

 

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মিস মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘জেএফএ কাপের এটা তৃতীয় আসর। এবার ছয় ভেন্যুতে প্রাথমিক রাউন্ডের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ছয় ভেন্যুর ছয় চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে সেরা দুই রানার্স-আপসহ মোট আটটি দলকে নিয়ে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চূড়ান্তপর্ব। চূড়ান্তপর্বে অংশ নিতে যাওয়া প্রত্যেক দলকে আমরা ২৫ হাজার টাকা করে অংশগ্রহণ ফি দিব। এছাড়া তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছি। লোকাল ট্রান্সপোর্টেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ হাজার, রানার্স-আপ দল ২৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা সেরা খেলোয়াড়কে প্রাইজমানি দেওয়া হবে। তাছাড়া পাওয়ার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে পুরস্কার থাকছে। ধন্যবাদ জানাচ্ছি ওয়ালটন গ্রুপকে। তারা সব সময় আমাদের পাশে আছে। সেটা ছোট পরিসরে হোক কিংবা বড় পরিসরে হোক। আশা করছি ভবিষ্যতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে।’