ঢাকা, ১৯ কার্তিক (৩ নভেম্বর) :

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ৪ নভেম্বর জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

‘‘উৎপাদনমুখী সমবায় করি, উন্নত বাংলাদেশ গড়ি’’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ৪৬তম জাতীয় সমবায় দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি সমবায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

সমবায় একটি প্রাচীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সামাজিক তথা জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতি অর্জনে সমবায় একটি পরীক্ষিত সফল পদ্ধতি। একক প্রচেষ্টায় যা করা সম্ভব নয় সমবায় পদ্ধতিতে তা সহজেই করা সম্ভব। তাই প্রাচীনকাল থেকেই সমবায় বিশ্বব্যাপী জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সমবায় জনগণের সংগঠন। বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলের দারিদ্র্যবিমোচন, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিসহ নারীর ক্ষমতায়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রসার ও প্রযুক্তির বিপ্লব আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নবতর সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। তাই এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগে আধুনিক প্রজন্মের উপযোগী সমবায় সমিতি গঠন করতে হবে। সমবায়ের সফলতার জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমবায় সমিতি গঠনে এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে সমবায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স¦প্ন ছিল দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। তিনি বিশ্বাস করতেন উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদন ব্যবস্থা ও বণ্টন প্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক জনগণ হলে তাঁর স¦প্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা সহজতর হবে। সমবায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স¦প্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার হোক- জাতীয় সমবায় দিবসে এ প্রত্যাশা করি।

আমি জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’