ঢাকা, ১৯ কার্তিক (৩ নভেম্বর) :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ নভেম্বর জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
‘‘আজ ৪৬তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সমবায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য বিবেচনায় সমবায় দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘উৎপাদনমুখী সমবায় করি, উন্নত বাংলাদেশ গড়ি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে সমবায়কে স¦ীকৃতি দিয়েছিলেন। তিনি গ্রামে গ্রামে বহুমুখী সমবায় গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জনগণের দুগ্ধজাত পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য মিল্ক ভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং মাদারীপুর জেলার টেকেরহাটে মিল্ক ভিটার প্রথম প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিলেন, যা আজও দেশের বৃহত্তম তরল দুগ্ধ উৎপাদনকারী ও বিতরণকারী সমবায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার মর্যাদা অক্ষুণœ রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আমাদের সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় সমবায় একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশে এই মুহুর্তে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৭০টি নিবন্ধিত সমবায় প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ৭২৮ জন সদস্য রয়েছে। সমবায় সমিতিগুলোর কার্যকরী মূলধন প্রায় ১৪ হাজার ৫৪ কোটি টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৩২ কোটি টাকা। এ সকল সমবায়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩৮ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সমবায়ভিত্তিক ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে আর মাইক্রোক্রেডিট নয়, ‘মাইক্রো সেভিংস’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।
আমরা বিগত বছরগুলোতে সমবায়ের মাধ্যমে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আরও দুইটি দুগ্ধভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আমরা কৃষি ও অকৃষি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা উৎপাদনমুখী সমবায় গঠনের মাধ্যমে ব্যবসায় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে তৎপর হোন।
আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ২০২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করা। আমরা চাই সকল সমবায়ী এই উন্নয়ন সংগ্রামে সামিল হোন। আমাদের সম্পদ সীমিত। সে সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সমবায় খাতকে আরও শক্তিশালী ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সমবায়ীগণকে উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
আমি আশা করি, সমবায়ের আদর্শ ও মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সকল সমবায়ী ভাইবোন দেশ ও জাতির উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’