ঢাকা, ০৯, নভেম্বর, ২০১৭ খ্রি.

ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এম.পি. বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি দুর করার বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা, জনভোগান্তি এবং দুর্নীতি কমাতে ইতোমধ্যে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থার কর্মকর্তা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় ভূমিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ভূমি সচিব এম.এ. জলিল এর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এম.পি., দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মাহফুজুর রহমান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আকরাম হোসেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, উপপরিচালক (মিডিয়া) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী ভূমির উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি। দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত স্বচ্ছতার মাধ্যমে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স করা হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কার্যাদি পদ্ধতিগতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভূমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে গেছে সেই মুঘল, ইংরেজ, পাকিস্তান শাসনামল থেকেই। মন্ত্রী বলেন, আমরা স্টেপ বাই স্টেপ এগুচ্ছি। তিনি বলেন, ভূমি অফিসগুলোর আশেপাশের দুষ্টুগ্রহ দুর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, ভূমি সম্পর্কিত ৭০টি গণশুণানী ও ১১ টা কর্মশালার পর্যালোচনা থেকে বুঝা যায় সার্ভে সেটেলমেন্ট ও নামজারি করাতে এসে মানুষ অনেক ভোগান্তির শিকার হন। তিনি ভূমি অফিসগুলোতে হেল্প ডেস্ক খোলার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিস থেকে মানুষ ভালো আচরণ প্রত্যাশা করে, ভূমির দপ্তর প্রধানের সাথে সাধারণ মানুষের সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা, সঠিক তথ্য প্রদান, সিটিজেন চার্টারভিত্তিক বিভিন্ন তথ্যাদি অফিসের সামনে টানিয়ে রাখা, ভূমি তথ্য সেবা মেলা বা সেবা সপ্তাহ চালু রাখা, প্রতি সপ্তাহে গণ শুণানীর আয়োজন করা, দালালদের দৌরাত্ম কমাতে চিহ্নিত দালালদের ছবি অফিসের সামনে টানানোর ব্যবস্থা করা ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যাংক করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ ব্যাংকের আওতায় সরকারি খাসজমি ও সরকারি অন্যান্য জমির হিসাব নিকাশ থাকবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ৪৫টি উপজেলাকে ডিজিটালাইজড করার কাজ চলছে। এছাড়া ভূমি জোনিং প্রকল্পের কাজও চলছে।

ভূমি সচিব এম.এ. জলিল বলেন, বিদ্যমান ম্যাপ, খতিয়ান স্ক্যান করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে ছাড়া হচ্ছে। এখন দেশের যে কোন স্থান থেকে খতিয়ান অনলাইনের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ভূমি ব্যবস্থাপনা রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য সিকিউরিটি এন্ড সেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।