পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ এর টিজার উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নির্মিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোটবোন শেখ রেহানা নিবেদিত এই চলচ্চিত্রের তিনটি টিজার উদ্বোধনকালে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: ফারুক আহমেদ, চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও সংলাপ রচয়িতা নজরুল ইসলাম, সৃজনশীল পরিচালক জুয়েল মাহমুদ ও প্রযোজক লিটন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্র নির্মাণে সময় দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং অন্য ভাষাভাষীসহ কোটি কোটি মানুষ গ্রন্থটি পড়েছেন। কিন্তু এটি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি। এজন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। চলচ্চিত্রের পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং প্রযোজক লিটন হায়দারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’
চলচ্চিত্রটি অন্যান্য দেশেও অন্যান্য ভাষায় ডাবিং করে পাঠালে বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং কর্ম সংগ্রাম সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানতে পারবে, বলেন সম্প্রচারমন্ত্রী।
‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণুর চরিত্র রূপায়ন করেছেন পূর্ণিমা এবং বঙ্গবন্ধুর বাবা ও মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যথাক্রমে খায়রুল আলম সবুজ এবং দিলারা জামান।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৩ জুন ২০২১ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্রটির ৩টি পোস্টারে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। খুব শিগগিরই দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলিতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন উদ্দেশ্যেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পীরগঞ্জে হামলা করেছে। সরকার এই অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করতে বদ্ধপরিকর।
যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সারাদেশেই তাদের এধরণের আরো ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হয়েছে উল্লেখ করে সবাইকে এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক হতে বলেন ড. হাছান মাহমুদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পীরগঞ্জে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাড়িতে আগুন দেয়া হলো। এটি খুবই স্পষ্ট যে পীরগঞ্জকে তারা এই কারণেই বেছে নিয়েছে যাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।
চাঁদপুরে যারা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ গুলি চালিয়েছে এবং আমাদের এ পদক্ষেপ পার্শ্ববর্তী ভারতেও অনেক পত্র-পত্রিকা প্রশংসা করেছে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি, অসাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান বলেন, আমাদের দলের সমস্ত নেতাকর্মীদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার জন্য, তারা দাঁড়িয়েছে। আরো বহু জায়গায় এ ধরণের ঘটনা ঘটানো চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়ার কারণে, মানুষের পাশে থাকার কারণে সেটি করা সম্ভবপর হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিএনপি-জামাতসহ ধর্মান্ধগোষ্ঠীরা বিভিন্ন সময় নানা ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, পদ্মাসেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের সময় তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে এবং এই দূর্গাপূজাকে উপলক্ষ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। এবং এটি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য, সরকারকে বেকায়দা ফেলার জন্য, এটি খুবই স্পষ্ট। সরকার কঠোর হস্তে এসব অপচেষ্টা দমন করছে, মামলা ও গ্রেফতার হয়েছে।’
এদিন শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ রাসেল এবং ১৫ আগস্ট শহীদদের সমাধিতে পুষ্প অর্পণ ও দোয়ায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী। দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর আয়োজিত আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শহীদ শেখ রাসেলের স্মৃতিকে ধারণ করে মেধা, মূল্যবোধ, মমত্ববোধ ও দেশপ্রেমে জাগ্রত করে শিশুদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অধিদফতরের মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: মুরাদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বক্তব্য রাখেন।
১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, কারণ তা না হলে ইতিহাসের দায় থেকে যাবে, বলেন ড. হাছান মাহমুদ।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান তার বক্তৃতায় বলেন, ‘১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের বিচার করতে হবে, জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে হবে।