ঢাকা, ৪/১০/২০১৭ খ্রি. (বুধবার)।

ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, জালিয়াতচক্র যতই শক্তিশালীই হোক, কৃষি খাস জমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে সঠিকভাবে বন্দোবস্ত প্রদান করুন। তিনি আরও বলেন, ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা সকল ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্টীয় কাজ পরিচালনা করতে হবে।

আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির ৩৩তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন।

ভূমিমন্ত্রী শরীফ আরও বলেন, সারাদেশে জনগণ এখন সহজেই নামজারী, জমাভাগ, ভূমি উন্নয়ন কর, জমির নকশা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে পারছে। সারাদেশে জীর্ণশীর্ণ ভূমি অফিসগুলোর আধুনিকায়ন অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ চলছে। কৃষি, অকৃষি, জলাভূমি, বনভূমি, পাহাড়, শিল্পাঞ্চলে ভাগ করে ল্যান্ড জোনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে গৃহহীনদের জন্য খাসজমিতে ঘর নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসন ও ভূমিহীনদের খাস জমি প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, গৃহহীনদের জন্য গৃহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

দেশব্যাপী কৃষি খাসজমি বরাদ্দ সম্পর্কে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কৃষি খাসজমি বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি মূল্যায়ণ এবং কৃষি খাসজমি চিহ্নিত ও বরাদ্দ সংক্রান্ত বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। সারাদেশে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৪ হাজার ৭৩টি ভূমিহীন পরিবারকে ৪১ হাজার ৭০৫ একর কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এম.পি’র সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এম.পি. রমেশ চন্দ্র সেন, বগুড়া-৫ আসনের এমপি, মো. হাবিবর রহমান, হবিগঞ্জ-৩ আসনের এম.পি মো. আবু জাহির, ভূমি সচিব আবদুল জলিল, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহুরুল হক, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মাহফুজুর রহমান, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব) আবদুল হান্নান, ৭ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারগণসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।