বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আজ ১৯ সেপ্টম্বর ২০১৭ইং মঙ্গলবার সকাল ১১:৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে চাল নিয়ে চালবাজি বন্ধ ও ১০০% রেশনিং পদ্ধতি চালুর দাবিতে উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য বছরে চালের চাহিদা প্রায় ৩ কোটি ২৫ লক্ষ মেঃ টন। দেশে ৩ ফসলি ধান আমন, আউশ ও বোরো মিলিয়ে উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ মেঃ টন। উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৫০ লক্ষ মেঃ টন। গত ৩ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় বিগত দিনে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃতিত্বের ঢেকুর তোলে। প্রতি বছরই কৃষকের গোলার ধান বিক্রি হবার পর খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল সংগ্রহের অভিযানে নামে। এতে করে কৃষকরা তার ন্যায্য মূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা ঠিকই হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। চলতি বছরে হাওর বিলীন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ফলে সরকারি হিসাবে প্রায় ২০ লক্ষ মেঃ টন চাল উৎপাদন কম হয়েছে। যদিও খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে পর্যাপ্ত চাল গুদামে মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে খাদ্য গুদামে মজুদ আছে ৩ লক্ষ মেঃ টন (যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত)। আমাদের প্রশ্ন তাহলে চাল গেল কোথায়? চাল নিয়ে মজুদদার, আড়তদার, মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা চালবাজি শুরু করে দিয়েছে। চালের দাম হু হু করে বাড়ছে। সরকার চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার করার পরও চালের দাম কমছে না। উল্টো এই মোটা চাল আমদানি করে এক শ্রেণীর অসাধু মিল মালিক ৩৪ টাকার চাল চিকন বানিয়ে ৬৫ টাকা করে বিক্রি করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিসিবি ও এমএস’র মাধ্যমে খোলা বাজারে যে চাল বিক্রি করছে সেখানেও শুরু হয়েছে এক চালবাজি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ভোক্তা অধিকার আইন নিজেরাই মানছে না। ভোক্তাদের সিদ্ধ চালের পরিবর্তে আতপ চাল দিয়ে এক প্রকার প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক হিসাবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একে অপরের দোষারোপের যাতাকলে পড়ে দুঃষহ জীবন যাপন করছি। একটি পরিবারে দৈনিক প্রায় চাল কিনতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে দুই থেকে আড়াইশ টাকা। বাংলাদেশের ১৬ কোটি নাগরিককে সুস্থ ধারার জীবনযাপন করার ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দিতে ১০০% রেশনিং পদ্ধতির বিকল্প নেই। বর্তমান চালের বাজারে সুস্থতা আনতে আমাদের কতিপয় পরামর্শ নি¤েœ তুলে ধরছি ঃ-
১.    সারাদেশে পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে চালের বাজার হাতের নাগালে আনতে হবে।
২.    ওএমএস’র মাধ্যমে চাল বিক্রি না করে রেশন কার্ডের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩.    বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব আপতত বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে মিল মালিকরা আরেক দফা চালের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে।
৪.    কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় হীনতা দূর করে এক সাথে কাজ করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা করার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৫.    আগামী বোরো ফসল রোপনের পূর্বেই কৃষকদের তালিকা তৈরি করে বীজ, সার ও কীটনাশক ন্যায্যমূল্যে বিতরণ করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল ক্রয় করতে হবে।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বিএনএ’র মহাসচিব ড. মেজর (অব) হাবিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরু, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানের সুলতান বাহার, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান, কর্মসংস্থান আন্দোলনের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এড. ইসরাত হাসান, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি মহাসচিব মিজানুর রহমান মিজু, এনডিপি’র মহাসচিব আমানুল্লাহ প্রমুখ।