শাহারিয়া শাহাদাৎ, রিপোর্টার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ:-চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর কালীচক গ্রামে মো. রুবেল (২২) নামে নিজ বন্ধুকে ধারাল হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ গোপনের অপরাধে আব্দুল মালেক (৩১) নামে এক যুবকের ফাঁসির দন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরক্তি দায়রা জজ জিয়াউর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিত মালেক শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর কালীচক গ্রামের মাহাতাবউদ্দিনের ছেলে।
নিহত রুবেল একই গ্রামের তোবজুল ইসলামের ছেলে।
মামলার বিবরণে ও অতিরিক্ত সরকারী কৌঁসুলি আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, কান্তিনগর কালীচক গ্রামের তোবজুল ইসলামের ছেলে মো. রুবেলের কাছে তাঁর বন্ধু আব্দুল মালেক ১৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। রুবেল টাকা ফেরত চাইলে পরে টাকা দিবে বলে জানায় মালেক। পরে ২০০৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে রুবেলকে বাড়ি থেকে ডেকে বাগান দেখানোর কথা বলে পাশের চৌহান বিলে নিয়ে যায় মালেক। সেখানে পেছন থেকে ধারাল হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে রুবেলকে হত্যা করে মালেক। লাশ আখক্ষেতের মাটিতে পুঁতে রাখে। এর ১ মাস ২ দিন পর সে লাশের অবশিষ্টাংশ চটের ব্যাগে ভরে ওই স্থান থেকে সরিয়ে নিকটের চোহান ব্রিজের নীচে খালের পানিতে ডুবিয়ে রাখে। সন্দেহভাজ হিসেবে ১০ অক্টোবর নিহতের পরিবার, ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনান্যরা মালেককে নিজ বাড়িতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বন্ধু রুবেলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সে অনুযাযী ওইদিনই রুবেলের লাশের খন্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে সেই দিনই রুবেলের পিতা বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে ও মালেককে পুলিশে সোপর্দ করে। (মামলা নং-১৯ তাং ১০/১০/১৭,সেশন-৯০/২০১০.জিআর নং-৪১৪/২০০৯)। ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামালউদ্দিন মালেকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত একমাত্র আসামী মালেককে ৩০২ ধারায় (হত্যা) দোষী সাব্যস্ত করে সোমবার মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। মৃতুদন্ড হাইকোর্টে অনুমোদন ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ২০১ ধারায় ( লাশ গোপন) বর্নিত কারাদন্ড চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আদালত। আসামী পক্ষে ছিলেন আ্যাড. সোহরাব আলী।