বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, আবৃত্তি, লালন গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা।
বিকেল চারটায় নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে আলোচনা সভা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন বন্ধুসভার সদস্যরা। বন্ধুসভার সভাপতি আলী উজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রগতিশীল নারীদের সংগঠন ‘জাগো নারী বহ্নিশিখার আহ্বায়ক ফারুকা বেগম, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’র শিক্ষক মিঠুন কুমার ঘোষ, সাংবাদিক রবিউল হাসান, বন্ধুসভার উপদেষ্টা শাহ্নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম, বন্ধুসভার সদস্য বিজন ঘোষ। কবিতা আবৃত্তি করেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা আজিজুর রহমান ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মারিয়া হাসান। একক গান পরিবেশন করেন বন্ধুসভার দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান প্রামাণিক, পরিবেশ সম্পাদক সংগীতা রানী ঘোষ, সদস্য আবু রিত্তিকা কনা, সাব্বির আহমেদ, সেলিম রেজা। অনুুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক নয়ন আহমেদ।
বক্তারা বলেন, প্রথম আলো শুধু একটি পত্রিকায় নয়, এটি জনমানুষের সহায়ক। প্রথম আলো প্রতিনিয়তই সমাজের নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়। অদম্য মেধাবীদের পাশে থাকে। অন্যায়-অত্যাচারেও ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশে যদি প্রথম আলোর মতো আরো কয়েকটি পত্রিকা থাকতো, তবে দেশটি আরো অনেক এগিয়ে যেত।
এর আগে গত শনিবার প্রথম আলোর ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভার একটি ভালো কাজের অংশ হিসেবে পাখিদের নিরাপদ আবাসনের উদ্দেশ্যে গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার বন্ধুরা। বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রাম ও গ্রামের পাশে বনজ গাছগুলোতে মাটির হাঁড়ি বাঁধা কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে জেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিমি দূরে বরেন্দ্র অঞ্চলের বাবুডাইং গ্রামে গিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেয় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আদিবাসী বিদ্যালয়ের (আলোর পাঠশালা) শিক্ষার্থীরাও। বন্ধুরা গ্রাম ও গ্রামের পাশের গাছগুলোতে পাখির নিরাপদে থাকার জন্য হাঁড়ি বেঁধে দেয়। এছাড়াও গাছগুলোতে ‘পাখি প্রকৃতির অংশ, এদের রক্ষায় এগিয়ে আসুন’, ‘পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, এদের রক্ষায় এগিয়ে আসুন’, ‘পাখি প্রকৃতিতে সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা করে’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ’, ‘পাখি প্রকৃতির অংশ, এদের সংরক্ষণ করি, পরিবেশ বাঁচাই’ প্রভৃতি স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন টাঙ্গানো হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। পাখি ধরা ও মারা, পাখির ডিম ও বাসা নষ্ট না করার জন্য শিক্ষার্থীদের শপথ করানো হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি আলী উজ্জামান নূর, সাধারণ সম্পাদক নয়ন আহমেদ, নারী বিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া খাতুন, পাঠাগার সম্পাদক আঞ্জুমান আরা, পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সাকিবুল আলম, সদস্য জহিরুল ইসলাম, মমতাজ খাতুন, মিনহাজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, মশিউল হক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

 

শাহারিয়া শাহাদাৎ, রিপোর্টার