পুকুর ও পুকুর পাড়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের আদিবাসী গ্রাম মিরাকাঠালের চার ব্যক্তিকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে। আহতরা হলেন সেরেন মুরমুর ছেলে বনিফাস মুরমু (২৭), টেকা মুরমুর ছেলে সুশীল মুরমু (২২), রতন কর্মকারের ছেলে অজিত কর্মকার (৩০) ও রঞ্জিত ঘোষের ছেলে রাম ঘোষ (২৩)। এদেরে সকলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মিরাকাঠাল গ্রামের আদিবাসী নেতা জগদীশ সরেন, বিরেন বেসরাসহ আরো কয়েজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিরাকাঠাল গ্রামসহ আশেপাশের ৮/১০টি গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও হিন্দু জনসাধারণ যুগ যুগ ধরে ধোবা পুকুরপাড়ে অবস্থিত শ্মশানে মৃতদের সমাধিস্থ ও কালী মন্দিরে পূজা অর্চনা করে আসছে। অথচ গোমস্তাপুর উপজেলা সদর রহনপুরের আব্দুল হান্নান নামে এক ব্যক্তির উস্কানিতে আশেপাশের মুসলমান সম্প্রদায়ের বেশ কিছু লোক পুকুরপাড়টি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ব্যাপারে আব্দুল হান্নাসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলাও দায়ের হয়েছে। বেশ কয়েকদিন থেকে আব্দুল হান্নান ও তাঁর লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আদিবাসী নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে চাপ প্রয়োগ ও মারধরের হুমকিও দিতে থাকে। এমনকি আদিবাসীদের পুকুরপাড়ে ও মন্দিরে যেতেও বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই দিন আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হুমকি প্রদানকারীদের নিষেধ করে আসে এবং গত শুক্রবার রাতে মো. হানিফ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। ওই ব্যক্তি এক আদিবাসীর দায়ের করা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। এরই জের ধরে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে মিরাকাঠাল গ্রামের চার ব্যক্তিকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। এ হামলার নেতৃত্ব দেন মো. শামসুল (৩৫), আব্দুর রশিদ (৩৫), মো. জুয়েলসহ (২৭) বেশ কয়েকজন। এদের মদদদাতা আব্দুল হান্নান। আহতদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসার সময় পথরোধ করে আবারো হামলা চালানোর চেষ্টা করে তাঁরা। পুলিশের সহায়তায় তাঁদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
গোমস্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজেমুল হক জানান, ধোবা পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনের বিরোধ চলে আসছে। এর জেরেই শনিবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকায় এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলা করতে কেউ আসেনি।
এ ব্যাপারে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।