ঘুষ গ্রহণের মামলায় বিগত চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে ফের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত নভেম্বরে ওই মামলায় সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন হাই কোর্ট। এ মামলায় বিচারিক আদালতে তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত তার স্ত্রী সিগমা হুদার কারাগারে থাকার সময়কে শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। ওই সময়েও রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে পৌঁছার ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ নাজমুল হুদাকে ফের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

লিভ টু আপিলের জন্য এফিডেফিট করতে অনুমতির আবেদন করেছেন নাজমুল হুদা। আদালত আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন। এখন হাইকোর্টের রায় পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

নিম্ন আদালত এ মামলায় নাজমুল হুদাকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। এর আগে হাই কোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা খালাস পান। পরে আপিল বিভাগ সে রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির জন্য হাই কোর্টে পাঠায়। নিজের পক্ষে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা শুনানি করেন।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাপ্তাহিক ‘খবরের অন্তরালে’ পত্রিকার জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা।

২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট বিশেষ জজ আদালতে এ মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছর কারাদণ্ড ও আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে হাই কোর্ট নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদাকে ২০১১ সালের ২০ মার্চ খালাস দেয়।

দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে শুনানি করে আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাই কোর্টের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করা হলে গত বছরের ১৩ এপ্রিল সে আবেদনও খারিজ করে আপিল বিভাগ। এরপর হাই কোর্টে মামলাটির পুনঃশুনানি হয়।