শ্রম আইন সংশোধনে সকল শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম ও গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক-ডিডবিøউআরএন এর মানববন্ধন

নির্মাণ শ্রমিক, গৃহশ্রমিক, বিদ্যুৎশ্রমিক সহ সকল শ্রমিকের মৃত্যুর মিছিল বন্ধের দাবিতে এবং শ্রম আইন সংশোধনে সকল শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ক্ষতিপূরণের পরিমান বৃদ্ধির জন্য শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম ও গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক-ডিডবিøউআরএন এর যৌথ উদ্যোগে আজ ২৬ আগষ্ট শনিবার বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দিন দিন বাংলাদেশের শিল্প খাতসমূহে দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আর সেই সাথে বাড়ছে শ্রমিকের মৃত্যুর মিছিল। শিল্পখাতে অব্যবস্থাপনা ও শ্রম আইন স¤পূর্ণভাবে অনুসরণ না করায় শ্রমিকরা একের পর এক মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। তারা বলেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যথাযথ পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান না থাকার কারণে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ও সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা।

বক্তারা আরও বলেন বাংলাদেশে শিল্প দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিককে প্রদানকৃত ক্ষতিপূরণের পরিমাণও অপর্যাপ্ত। ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের একটি আইনী কাঠামো রয়েছে যদিও এর পরিমাণ অত্যন্ত কম। এই আইনে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা ও স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা (সূত্র: পঞ্চম তফসিল, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬)। উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে আজ আমরা ২০১৭ সালে পৌঁছেছি। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল খাতে ব্যয় বেড়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের বেতন বেড়েছে অথচ শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২০০৬ সালে যা ছিল এখনও তাই রয়ে গেছে! এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একজন শ্রমিকের আয়ের ভিত্তিতে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত তা সমর্থনের মানসিকতা বাংলাদেশের সমাজে প্রচলিত নয়। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ যুগোপযোগী ও পরিপূর্ণ করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে শ্রম আইনের কিছুু পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করা হয়। তা সত্তে¡ও বর্তমান শ্রম আইনে গৃহশ্রমিকসহ বিপুল সংখ্যক শ্রমিক শ্রম আইনের আওতাবঞ্চিত আছেন। ফলে তারা শ্রম আইনে উল্লিখিত সুবিধাসমূহ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। স¤প্রতি শ্রম আইন পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এবারের সংশোধনীতে যেন সকল শ্রমিককে শ্রম আইনের আওতায় নিয়ে এসে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় সে বিষয়ে তারা জোর দাবী জানান।

কর্মসূচিতে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম ও গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক-ডিডবিøউআরএন অন্তর্ভুক্ত সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।