আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নেতৃবৃন্দ। তারা আজ ০৩ মে ২০১৮, সকাল ১১.০০টায়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সুজন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ‘সুজন’ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুজন স¤পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজন নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং ড. শাহদীন মালিক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘সুজন’-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৫ মে ২০১৮ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ৩টি পদে সর্বমোট ৩৯১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও, চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে ৭ জন, এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৮৪জন অর্থাৎ ৩টি পদে সর্বমোট ৩৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একইভাবে খুলনা সিটি নির্বাচনে ৩টি পদে সর্বমোট ২৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৮জন এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৩৯জন অর্থাৎ ৩টি পদে সর্বমোট ১৯২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থীদের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, গাজীপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ৮৬ জন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ৪০ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’

তিনি বলেন, আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই যে, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। এখন পর্যন্ত আমাদের দৃষ্টিতে দুটি সিটির নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অনুকূল বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও ত্র“টিমুক্তভাবে তথা অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই বিবেচনায় রাখবে যে, কয়েক মাসের মধ্যেই আমাদের জাতীয় নির্বাচন। সঙ্গত কারণেই গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ এখন থেকে বড় বড় যে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে, সারাদেশের সচেতন নাগরিকদের দৃষ্টি থাকবে সেদিকে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের আন্তরিকতা, সক্ষমতা, নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা ইত্যাদি দিকগুলো পরখ করার সুযোগ পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই তার দায়-দায়িত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এই নির্বাচন পরিচালনা করবে। তবে এও ঠিক যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের একক প্রচেষ্টায় কখনোই সম্ভব নয়। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের সদিচ্ছা প্রধানতম পূর্বশর্ত। এছাড়াও রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী দায়িত্বে নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী ও সমর্থক এবং ভোটারদেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আমরা আশাবাদী যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী ১৫ মে ২০১৮, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আমরা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী কর্তৃক হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন দিলীপ কুমার সরকার। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের (৭১.৪৩%) শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং ২ জনের (২৮.৫৭%) শিক্ষাগত যোগ্যতা øাতক। মোট ৫৭ টি সাধারণ ওয়ার্ডের ২৫৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১১২ জনের (৪৪.০৯%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র নিচে, ৪০ জনের (১৫.৭৪%) এসএসসি এবং ৩৪ (১৩.৩৮%) জনের এইচএসসি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯ (১৫.৩৫%) ও ২১ জন (৮.২৬%)। মোট ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৮৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে এসএসসি’র কম শিক্ষাগত যোগ্যতাস¤পন্ন প্রার্থীর সংখ্যা ৪৯ জন (৫৮.৩৩%)। ৯ জনের (১০.৭১%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এবং ৯ জনের (১০.৭১%) এইচএসসি। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ৯ জন (১০.৭১%) ও ৭ জন (৮.৩৩%)। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, সর্বমোট ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১০ জন বা ৬০.৮৬%-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তাঁর নীচে। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৮৩ জন (২৪.০৫%)। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে যে, শতকরা ৪৬.৬৬% (১৬১ জন) প্রার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি অতিক্রম করেননি।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের (৬০%) শিক্ষাগত যোগ্যতা øাতক এবং ২ জন (৪০%) স্ব-শিক্ষিত। ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডের ১৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪৭ জনের (৩১.৪৭%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র নিচে, ৩৯ জনের (২৬.৩৫%) এসএসসি এবং ২৫ (১৬.৮৯%) জনের এইচএসসি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ২৪ (১৬.২১%) ও ১১ জন (৭.৪৩%)। মোট ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে এসএসসি’র কম শিক্ষাগত যোগ্যতাস¤পন্ন প্রার্থীর সংখ্যা ২১ জন (৫৩.৮৪%), ৭ জনের (১৭.৯৪%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এবং ২ জনের (৫.১২%) এইচএসসি। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ৬ জন (১৫.৩৮%) ও ৩ জন (৭.৬৯%)। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, সর্বমোট ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১৬ জন বা ৬০.৪১%-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তাঁর নিচে। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৪৭ জন (২৪.৪৭%)। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে যে, শতকরা ৩৬.৪৫% (৭০ জন) প্রার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি অতিক্রম করেননি।’

প্রার্থীদের পেশা সম্পর্কে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (৪২.৮৬%) ব্যবসায়ী, ৩ জন (৪২.৮৬%) চাকুরিজীবি এবং ১ জন আইনজীবি। ২৫৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৭৫.৯৮% (১৯৩ জন) ভাগের পেশাই ব্যবসা। কৃষির সাথে স¤পৃক্ত আছেন ২২ জন (৮.৬৬%) করে। আইনজীবী রয়েছেন ২ জন (০.৭৮%)। ৮৪ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশই (৩৯ জন বা ৪৬.৪২%) গৃহিণী; পেশার ঘর পূরণ না করা ৭ জনকে সহ হিসাব করলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ (৫৪.৭৬%)। ২৩ জন (২৭.৩৮%) রয়েছেন ব্যবসার সাথে যুক্ত। সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে আইনজীবি রয়েছেন ৫ জন (৫.৯৫%)। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৬৩.৪৭% ভাগই (২১৯ জন) ব্যবসায়ী। বিশ্লেষণে অন্যান্য নির্বাচনের মত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই (৬০%) ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেশার ঘরে উল্লেখ করেছেন ‘এখন ব্যবসা বন্ধ, বাড়ী ভাড়া আয়ের উৎস’। ১৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৭৬.৩৫% (১১৩ জন) ভাগের পেশাই ব্যবসা। কৃষির সাথে স¤পৃক্ত আছেন ৭ জন (৪.৭২%) করে। আইনজীবী রয়েছেন ২ জন (০.৭৮%)। ৩৯ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশই (১৫ জন বা ৩৮.৪৬%) গৃহিণী। ১০ জন (২৫.৬৪%) রয়েছেন ব্যবসার সাথে যুক্ত। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৬৫.৬২% ভাগই (১২৬ জন) ব্যবসায়ী। বিশ্লেষণে বলা যায় যে, অন্যান্য নির্বাচনের মত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে।’

প্রার্থীদের মামলা সম্পর্কে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ফৌজদারি মামলা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন ৩ জন (৪২.৮৫%)। ২৫৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৯৩ জনের (৩৬.৬১%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩৮ জনের (১৪.৯৬%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২২ জনের (৮.৬৬%) উভয় সময়ে মামলা ছিল বা আছে। ৩০২ ধারায় ৭ জনের (২.৭৫%) বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা আছে, ৬ জনের (২.৩৬%) বিরুদ্ধে অতীতে ছিল এবং ১ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে আছে বা ছিল। ৮৪ জন সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের (৫.৯৫%) বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা আছে এবং ২ জনের (২.৩৮%) বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি মামলা ছিল। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০০ জনের (২৮.৯৮%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৩ জনের (১২.৪৬%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৪ জনের (৬.৯৫%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় ৭ জনের (২.০২%) বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ৬ জনের বিরুদ্ধে (১.৭৩%) অতীতে ফৌজদারি মামলা আছে বা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ফৌজদারি মামলা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন ৩ জন (৬০%)। ১৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৩০ জনের (২০.২৭%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩৭ জনের (২৫%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ১৪ জনের (৯.৪৫%) উভয় সময়ে মামলা ছিল বা আছে। ৩০২ ধারায় ৪ জনের (২.৭০%) বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা আছে, ৮ জনের (৫.৪০%) বিরুদ্ধে অতীতে ছিল এবং ১ জনের (০.৬৭%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে আছে বা ছিল। ৩৯ জন সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জনের (২.৫৬%) বিরুদ্ধে অতীতে ১টি ফৌজদারি মামলা ছিল। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনের (১৬.৬৬%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৩ জনের (২১.৩৫%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ১৬ জনের (৮.৩৩%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় ৫ জনের (২.৬০%) বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ৯ জনের বিরুদ্ধে (৪.৬৮%) অতীতে ফৌজদারি মামলা আছে বা ছিল।’

প্রার্থী ও নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয় সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের (২৮.৫৭%) আয় বছরে ৫ লক্ষ টাকার নিচে, ৩ জনের (৪২.৮৫%) আয় বছরে ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে এবং ১ জনের আয় দুই কোটি টাকার অধিক। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বছরে সর্বোচ্চ ২,১৬,৩৮,০০০.০০ টাকা আয় করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী মোঃ হাসান উদ্দিন সরকারের। তিনি বছরে ১৭,৮৯, ৫২৪.০০ টাকা আয় করেন। ২৫৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১৮৯ জনই (৭৪.৪০%) বছরে ৫ লক্ষ টাকার কম আয় করেন। বছরে ৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা আয় করেন ৪৫ জন (১৭.৭১%), ৫০ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেন ২ জন (০.৭৮%) এবং এক কোটি টাকার অধিক আয় করেন ১ জন (০.৩৯%) প্রার্থী। বছরে কোটি টাকার অধিক আয়কারী প্রার্থী হচ্ছেন ৪৩ নং ওয়ার্ডের আসাদুর রহমান কিরণ। তিনি বছরে ১,৫২,৬২,৯৬১.০০ টাকা আয় করেন। ১৭ জন (৬.৬৯%) ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী কোনো আয় দেখাননি। সংরক্ষিত আসনের ৮৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৫৬ জনের (৬৬.৬৬%) বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার নীচে। ৫ লক্ষ টাকার অধিক আয় করেন ৪ জন (৪.৭৬%)। ২৪ জন (২৮.৫৭%) জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী কোনো আয় দেখাননি। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪৭ জনের (৭১.৫৯%) বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম। আয় উল্লেখ না করা ৪২ জনকে (১২.১৭%) যোগ করলে এই হার দাঁড়ায় ৮৩.৭৬% (২৮৯ জন)। বিশ্লেষণে বলা যেতে পারে যে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সিংহভাগই স্বল্প আয়ের।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের (৪০%) আয় বছরে ৫ লক্ষ টাকার নিচে, ১ জনের (২০%) আয় বছরে ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে এবং ১ জনের আয় ৫০ লক্ষাধিক টাকা। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বছরে সর্বোচ্চ ৫২,৭৬,১৩৪.০০ টাকা আয় করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর। তিনি বছরে ৫,২৫,০০০.০০ টাকা আয় করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মিজানুর রহমান বাবু কোনো আয় দেখাননি। ১৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১০০ জনই (৬৭.৫৬%) বছরে ৫ লক্ষ টাকার কম আয় করেন। বছরে ৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা আয় করেন ৩৪ জন (২২.৯৭%), ৫০ থেকে ১ কোটি টাকার কম আয় করেন ১ জন (০.৬৭%) এবং এক কোটি টাকার অধিক আয় করেন ১ জন (০.৬৭%) প্রার্থী। সংরক্ষিত আসনের ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনের (৫৮.৯৭%) বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার নিচে। ৫ লক্ষ টাকার অধিক আয় করেন ২ জন (৫.১২%)। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২৫ জনের (৬৫.১০%) বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম। আয় উল্লেখ না করা ২৭ জনকে (১৪.০৬%) যোগ করলে এই হার দাঁড়ায় ৭৯.১৬% (১৫২জন)। বিশ্লেষণে বলা যেতে পারে যে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সিংহভাগই স্বল্প আয়ের।’

প্রার্থী ও নির্ভরশীলদের সম্পদের তথ্য তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের (১৪.২৮%) সম্পদ ৫ লক্ষ টাকার নিচে, ৩ জনের (৪২.৮৬%) ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে এবং ২ জনের (২৮.৫৭%) কোটি টাকার অধিক মূল্যমানের স¤পদ রয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স¤পদ রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের। তার মোট স¤পদের পরিমাণ ৮, ৮৮,২৬,৭৩৬.০০ টাকা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী মোঃ হাসান উদ্দিন সরকারের মোট স¤পদের পরিমাণ ২,৩৪, ৭৮,২৪৯.০০ টাকা। ২৫৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশই (১৫৬ জন অথবা ৬১.৪১%) স্বল্প স¤পদের অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকার কম মূল্যমানের স¤পদের মালিক। ৫ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার স¤পদ রয়েছে ৬১ জনের (২৪.০১%) এবং ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা মূল্যমানের স¤পদ রয়েছে ৩ জনের (১.১৮%)। ৩ জন (১.১৮%) কাউন্সিলর প্রার্থীর স¤পদ কোটি টাকার অধিক। ৮৪ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ জনের (৭০.২৩%) স¤পদ ৫ লক্ষ টাকার কম। ৫ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার স¤পদ রয়েছে ১৫ জন (১৭.৮৫%) সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর। ১০ জন (১১.৯০%) সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী স¤পদের কথা উল্লেখ করেননি। বিশ্লেষণে দেখা যায় ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১৬ জনই (৬২.৬০%) ৫ লক্ষ টাকার কম স¤পদের মালিক। স¤পদের কথা উল্লেখ না করা ৪২ জন প্রার্থীসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫৮ জন (৭৪.৭৮%)। অপরদিকে কোটিপতি রয়েছেন মাত্র ৫ জন (১.৪৪%)।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের (১৪.২৮%) সম্পদ ৫ লক্ষ টাকার নিচে, ৩ জনের (৪২.৮৬%) ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে এবং ২ জনের (২৮.৫৭%) কোটি টাকার অধিক মূল্যমানের স¤পদ রয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স¤পদ রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের। তার মোট স¤পদের পরিমাণ ১১,৮৩,৩১,৫৫৬.০০ টাকা। ১৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশই (৭৭ জন অথবা ৫২.০২%) স্বল্প স¤পদের অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকার কম মূল্যমানের স¤পদের মালিক। ৫ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার স¤পদ রয়েছে ৩৬ জনের (২৪.৩২%) এবং ১ কোটি টাকা মূল্যমানের অধিক মূল্যমানের স¤পদ রয়েছে ১ জনের (০.৬৭%)। কোটি টাকার অধিক স¤পদের অধিকারী কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন ১৪ নং ওয়ার্ডের শেখ মফিজুর রহমান পলাশ। তিনি ১,১৪,১০,৬৩৮.০০ টাকা মূল্যের স¤পদের মালিক। ৩৪ জন (২২.৯৭%) ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী স¤পদের কথা উল্লেখ করেননি। ৩৯ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনের (৭১.৭৯%) স¤পদ ৫ লক্ষ টাকার কম। ৫ লক্ষাধিক টাকার স¤পদ রয়েছে ৭ জন (১৭.৯৪%) সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর। ৪ জন (১০.২৫%) সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী স¤পদের কথা উল্লেখ করেননি। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৯ জনই (৫৬.৭৭%) ৫ লক্ষ টাকার কম স¤পদের মালিক। স¤পদের কথা উল্লেখ না করা ৩৮ জন প্রার্থীসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩ জন (৭৪.৪৭%)। অপরদিকে কোটিপতি রয়েছেন মাত্র ২ জন (১.০৪%)।’

প্রার্থীদের দায়-দেনা ও ঋণ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের (১৪.২৮%) দায়-দেনা ও ঋণ রয়েছে। ঋণ গ্রহণকারী মেয়র প্রার্থী হলেন ইসলামী ঐক্য জোটের ফজলুর রহমান। সাধারণ আসনের ২৫৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জন (১৬.১৪%) এবং সংরক্ষিত আসনের ৮৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪ জন (৪.৭৬%) ঋণ গ্রহীতা। সর্বমোট ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ৪৬ জন (১৩.৩৩%)। মোট ৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের (২৩.৯১%) কোটি টাকার উপরে ঋণ রয়েছে। কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ১০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের (২০%) দায়-দেনা ও ঋণ রয়েছে। ঋণ গ্রহণকারী মেয়র প্রার্থী হলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মিজানুর রহমান বাবু। সাধারণ আসনের ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন (৮.৭৮%) এবং সংরক্ষিত আসনের ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে কেউই ঋণ গ্রহণ করেননি। সর্বমোট ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ১৪ জন (৭.২৯%)। মোট ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের (২৮.৫৭%) কোটি টাকার উপরে ঋণ রয়েছে। কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণকারী ৪ জনই সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী।’

প্রার্থীদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর সকলেরই আয়কর বিবরণী পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে করের আওতায় পড়েছেন ৪ জন। সর্বশেষ অর্থ বছরে সর্বোচ্চ ৬৪,০০,৫৪০.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮০,৫৬৪.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী মোঃ হাসান উদ্দিন সরকার এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৩,৩৪০.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন ইসলামী ঐক্য জোটের প্রার্থী ফজলুর রহমান। কর প্রদানকারী অপর প্রার্থী কাজী মোঃ রুহুল আমিন। তিনি ৫,০০০.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন। ২৫৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১০১ জন (৩৯.৭৬%) আয়কর প্রদানকারী। এই মধ্যে ১০১ জনের মধ্যে ৪০ জন (৩৯.৬০%) কর প্রদান করে ৫ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম। ১৬ জন (১৫.৮৪%) লক্ষাধিক টাকা কর প্রদান করেছেন। ৮৪ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে মধ্যে ১৪ জন (১৬.৬৬%) আয়কর প্রদানকারী। এদের মধ্যে ৮ জনই (৫৭.১৪%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, সর্বমোট ৩৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১৯ জন (৩৪.৪৯%) কর প্রদানকারী। এই ১১৯ জনের মধ্যে ৪৯ জনই (৪১.১৭%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম কম। লক্ষাধিক টাকা কর প্রদানকারী ১৭ জনের মধে ১৬ জনই (৯৪.১১%) সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর সকলেরই আয়কর বিবরণী পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে করের আওতায় পড়েছেন ২ জন। সর্বশেষ অর্থ বছরে সর্বোচ্চ ২,৩০,৯২১.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে অপর করদাতা হলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান। তিনি সর্বশেষ অর্থ বছরে ৪,০০০.০০ টাকা কর প্রদান করেছেন। ১৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৮৮ জন (৫৯.৪৫%) আয়কর প্রদানকারী। এই মধ্যে ৮৮ জনের মধ্যে ৫২ জন (৫৯.০৯%) কর প্রদান করে ৫ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম। ১২ জন (১৩.৬৩%) কাউন্সিলর প্রার্থী লক্ষাধিক টাকা কর প্রদান করেছেন। সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকার অধিক কর প্রদান করেছেন ৫জন কাউন্সিলর প্রার্থী। ৩৯ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে মধ্যে ২১ জন (৫৩.৮৪%) আয়কর প্রদানকারী। এদের মধ্যে ১৭ জনই (৮০.৯৫%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, সর্বমোট ১৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১১ জন (৫৭.৮১%) কর প্রদানকারী। এই ১১১ জনের মধ্যে ৭০ জনই (৬৩.০৬%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। লক্ষাধিক টাকা কর প্রদানকারী ১৩ জনের মধে ১২ জনই (৯২.৩০%) সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘হলফ করে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেয়া ফৌজদারি অপরাধ। তাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য যাছাই-বাছাই করা দরকার এবং হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপ-নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমরা নির্বাচন কমিশনের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। অথচ আমাদের সাংবিধানিক আকাক্সক্ষা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার পরিচালিত হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা।’

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁদের অধিকাংশই স্বল্প-শিক্ষিত, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের অধিকাংশই আয়কর দেন না। এর বিপরীতে আমরা যদি নির্বাচনে বেশি পরিমাণে সমাজসেবী, পেশাজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী প্রার্থী পেতাম তাহলে প্রার্থীদের মানের উন্নতি ঘটতো এবং আমরা তুলনামূলক ভাল কাউন্সিলর পেতাম।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার। কমিশন যদি নির্বাচনের আগে তা করতে না পারে তাহলে শপথ গ্রহণের আগে অন্তত বিজয়ী মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলরদের তথ্য যাছাই করতে পারে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে যদি কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে কেউ ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিবে না।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শুধু প্রার্থীদের জনপ্রিয়তাই যাচাই হবে না, একইসাথে নির্বাচন কমিশনের জনপ্রিয়তা ও কর্মদক্ষতার প্রকাশ ঘটবে। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়ায় এ নির্বাচন দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, নির্বাচন দুটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।’