ঢাকা: বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্রের পথেই দেশ পরিচালনা করতে হবে। সেই সাথে মনে রাখতে হবে, রাজাকারের বিরুদ্ধে ও সমাজতন্ত্রের পক্ষে সত্য উচ্চারণে দ্বিধাবোধ দেশের সমৃদ্ধির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।’

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহায়তায় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন।

বর্তমান যুগকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ হিসেবে বর্ণনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য ও ইন্টারনেটের অধিকার মানবাধিকারের অংশ। এ দু’টি অধিকার আইন হিসেবে প্রণয়নের দাবি রাখে। আর পর্যাপ্ত পুষ্টি সম্বলিত খাদ্য নিরাপত্তাই ক্ষুধামুক্তির পথ।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় দারিদ্র্যের কোনো স্থান নেই। ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে স্থায়ী মুক্তির জন্য যে সমৃদ্ধি প্রয়োজন, তা অর্জনে জাতিকে দর্শনগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর রাজাকার-তোষণ, দুর্নীতি-অপরাজনীতি উচ্ছেদ সমৃদ্ধির পূর্বশর্ত।’

খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সেমিনার থেকে ১১ দফা সুপারিশমালা প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, চালের দাম কমানো, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করা, অতি দরিদ্র ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগাহত কৃষকদের সহায়তা, কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পরিকল্পনা, হাওড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই পরিকল্পনা, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে সকল দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্তি।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি এবং সম্মানীয় অতিথিরূপে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী শাহাবউদ্দীন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. খুরশীদ জাহান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এম খালেক মাহমুদ আলোচনায় অংশ নেন।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের  নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী মূল প্রবন্ধ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সমন্বয়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।