ঢাকা: সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৭
‘মিলনের রক্তে পাওয়া গণতন্ত্রকে জঙ্গিবাদের কবল থেকে মুক্ত রাখার সংগ্রামে ২৭ বছর পরও তিনি প্রাসঙ্গিক’, বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বৈরশাসকের গুলিতে শহীদ ডা. মিলন স্মরণে সোমবার সকালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন ডা. মিলনের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর টিএসসি চত্বরে  শহীদ ডা. মিলন সংসদ আয়োজিত সভায় তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে গণতন্ত্র আমরা মিলনের রক্তে পেয়েছি, এই জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির কারণেই সেই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। ডা. মিলনের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত রেখে গণতন্ত্র ও শান্তির পথে এগিয়ে নিতে আমরা মহাজোট করেছি। মিলনের রক্তকে সম্মান জানাতে ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে তাই মহাজোটের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। আর সেজন্যই ডা. মিলন ২৭ বছর পরও আজ প্রাসঙ্গিক।’
হাসানুল হক ইনু এসময় বিএনপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘সামরিক শাসন অবসান করে গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে ডা. মিলন তার বুকের  রক্ত ঢেলে দেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে চলা শুরু করে। কিন্তু বিএনপি-জামাত চক্র এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে একাত্তরের খুনী, রাজাকার ও সন্ত্রাসীদের  ক্ষমতার বলয়ে আশ্রয় দেয়। তারা সাম্প্রদায়িক সহিংস রাজনীতির সূত্রপাত ঘটায়, ইতিহাসকে বিকৃত করে ও ধামাচাপা দিয়ে রাখে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়।’
‘দেশে যাতে আর রাজাকার, স্বৈরাচারী, সামরিক সরকার না আসে, সেই মহাসংগ্রামে ডা: মিলন আমাদের প্রেরণার উৎস’, বলেন তিনি।
শহীদ ডা. মিলন সংসদের সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু সালেহ বাবলু, জাসদ নেতা ওবায়দুর রহমান চুন্নু, জাতীয় যুবজোট সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল আহসান জুয়েল প্রমূখ।
এর পরপরই তথ্যমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ ডা. মিলনের কবরে পুষ্পাঞ্জলি অর্জনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. মিলনের আত্মত্যাগের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।